নাঈমুল আবরারের মৃত্যু অনুষ্ঠানস্থলে না হাসপাতালে, কোথায় কখন হয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 04/11/2019

সমীরণ রায় : ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাঈমুল আবরার শুক্রবার বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মাঠে প্রথম আলোর কিশোরদের মাসিক পত্রিকা কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মতোই এসেছিল সে।
প্রথম আলোর শনিবারের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নাঈমুল বিদ্যুতায়িত হলে ওইদিন মাঠে স্থাপিত জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের দু’জন বিশেষজ্ঞ (এফসিপিএস) চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, নাঈমুলের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে। যদি তাকে দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, তাহলে ইউনিভার্সেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করলেন কি করে। তাহলে কি মৃত নাঈমুলকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছিলো?
এদিকে, কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক তার ফেসবুক স্টাটাসে বলেন, নাঈমুল আবরারের আব্বা-আম্মা এবং শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে ছিলাম। কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং হাসপাতালে নেবার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। আমার জন্যে এর চেয়ে শোক, দুঃখ, পরিতাপের বিষয় আর নেই। তবে আমাকে চারটার পর জানানো হয়, একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষ হয় ৪টা ৪০ কি ৪টা ৪৫। পাঁচটার পর আমি জানতে পারি, আহত ব্যক্তি মারা গেছেন। মানে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ১৫/২০ মিনিট পরে মৃত্যুর খবর আমি পাই। তারও আধ ঘণ্টা পর আমাকে জানানো হয়, যিনি মারা গেছেন, তিনি ক্লাস নাইনের রেসিডেন্সিয়ালের ছাত্র। কাজেই যারা বলছেন, নাঈমুল আবরার মারা যাওয়ার খবর গোপন করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা ঠিক বলছেন না। শেষ শিল্পী অর্ণব ওঠার আগে দুর্ঘটনা সম্ভবত ঘটেনি। ওখানে দুজন এফসিপিএস ডাক্তার ছিলেন। একটা অ্যাম্বুলেন্স রেডি করা ছিল। সেই অ্যাম্বুলেন্সেই আববারকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কেন তাকে হৃদরোগ ইন্সিটিউটে নেয়া হলো না, এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য আমার জানা নেই।
ইউনিভার্সেল হাসপাতালের মেডিকেল ক্যাম্পের এক ব্রাদার বলেন, মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসকরা ছেলেটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়ার জন্য বলেন। এর আগে, ক্যাম্পের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মারা গেছে বলে জানান। তবে তখন চিকিৎসকরা কিশোর আলোর কাউকে জানিয়েছিলেন কিনা তা আমি জানি না। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলো। তাই হাসপাতলে নিয়েছি।
মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশিস কুমার চক্রবর্তী বলেন, নাঈমুলের মরদেহ হাসপাতলে আনা হয়েছিল আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণার জন্য। আবরার স্কুলের মাঠেই মারা গিয়েছিল। একজনকে মৃত ঘোষণা করতে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাকে মেডিকেল ক্যাম্পেই মৃত ঘোষণা করেছিলো। সেখানের স্বেচ্ছাসেবীরা জানতো। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তখন তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিল কি না, তা আমরা জানি না।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]