• প্রচ্ছদ » » খোকার মুক্তিযুদ্ধ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন


খোকার মুক্তিযুদ্ধ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

আমাদের নতুন সময় : 05/11/2019

শাহানুজ্জামান টিটু : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ১৯৫২ সালের ১২মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই গোপনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন তিনি। মেলাঘরে ট্রেনিং ক্যাম্পে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা যে কয়েকজন যোদ্ধাদের নাম শুনলে পাকি ও তার দোসরদের হৃদকম্পণ হতো তাদের একজন খোকা। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর তিনি ও তার সহযোদ্ধারা টেলিভিশন ও রেডিওর নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে ছিনিয়ে এনেছিলেন বাংলাদেশের জয়।মুক্তিযুদ্ধে সাদেক হোসেন খোকা : ১৯৭১ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা রুহুল আমীন এবং গোপীবাগের মাসুদসহ (বুড়া) বেশ কয়েকজন মিলে প্রথমে খোকারা যান নরসিংদীর শিবপুরে। কয়েক দিন অবস্থানের পর ট্রেনিং নেয়ার জন্য আগরতলার পৌছালে তাদের রিসিভ করেন শহীদুল্লাহ খান বাদল (রাশেদ খান মেননের ছোট ভাই)। সেখান থেকে প্রথমে বটতলাস্থ সিপিএম অফিসে মেননের সঙ্গে দেখা করে চলে যান দুই নাম্বার সেক্টরে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। মেজর হায়দারের (পরে কর্নেল হায়দার) নেতৃত্বে ঢাকার মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দুই নাম্বার সেক্টরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের নাম ছিল ‘মেলাঘর’। এ ক্যাম্পেই তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয় আবু সাইদ খান, শাহাদত চৌধুরী, ফতেহ আলী চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সুলতান উদ্দিন রাজা, আতিকুল্লাহ খান মাসুদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, পল্টনের মানিক (পরে শহীদ), গাজী গোলাম দস্তগীর, মিজান উদ্দিন আহমেদ, শহিদুল্লাহ, শিল্পী শাহাবুদ্দিন, মাসুদ, কাজী ভাই, উলফাৎ ও বাকী (পরে শহীদ) অন্যতম। মেজর হায়দারের অধীনে তিন সপ্তাহ গেরিলা ট্রেনিং শেষে তারা সম্মুখ যুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন গাফফারের (পরে জাতীয় পার্টি নেতা ও মন্ত্রী) নেতৃত্বাধীন সাব সেক্টরে। ওখানে ট্রেনিং শেষ করার পর প্রথমদিকে কসবা-মন্দভাগ (মির্জাপুর)
সাদেক হোসেন খোকার “মুক্তিযুদ্ধের স্বর্ণালি দিনগুলো” প্রবন্ধে নিজেই লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের কথা ভাবলেই নস্টালজিক মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। মন শুধু রণাঙ্গনের সাহসী সহযোদ্ধাদের হারানোর কারণেই ভারাক্রান্ত হয় না, তার চেয়েও বেশি হয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন-চেতনার দুর্দশা দেখে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা স্বপ্ন যাই বলি না কেন সেটা শুধু একটি ভূখÐের স্বাধীনতা নয়, একটি সার্বিক মুক্তিই ছিল এ মহান যুদ্ধের মূল স্প্রিন্ট। সে কারণেই এর নাম হয়েছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ’। রাজনৈতিক জীবন : স্বাধীনতার পর প্রায়ত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহবায়কের দায়িত্ব পান তিনি। আন্দোলনের সফলতার ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিনি মৎস ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ২৯ নভেম্বর ২০১১ পর্যন্ত মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঢাকার আটটি আসনের মধ্যে একমাত্র তিনিই নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ৮নভেম্বর সায়দাবাদ ব্রীজের উপর আওয়ামী সরকার বিরোধী হরতালে পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০১১ সালের ০৪ ডিসেম্বর হরতালে ঢাকার কোট কাচারিতে ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে গ্রেফতার হন। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর খোকাকে ১৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয় নিম্ন আদালত। খালেদা জিয়া মার্চ ফর ডেমোক্রেসী ঘোষণার পর ২০১৩ সালের ৫ডিসেম্বর তিনি গ্রেফতার হন। ২০১৪ সালের ১৯ফেব্রæয়ারি তিনি মুক্তি পেয়েই বাংলাদেশের ইতিবাচক রাজনীতির অভিযাত্রা শুরু করেন। ২০১২ সালে ক্যান্সার অপারেশন করার পর তিনি কিছুদিন মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ২৪মে মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান এবং সেখানেই বীর এই মুক্তিযোদ্ধার জীবনাবাসন হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]