নাঈমুলের মৃত্যুতে আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আমাদের নতুন সময় : 05/11/2019

আনিস তপন : ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের মৃত্যুতে প্রচ- ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় এ প্রসঙ্গটি উঠে আসে বলে মন্ত্রিসভার সিনিয়র একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে আইনগত বিষয়ে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, নাঈমুল আবরার শুক্রবার বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মাঠে প্রথম আলোর কিশোরদের মাসিক পত্রিকা কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মতোই এসেছিল সে।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক মন্ত্রিসভার সিনিয়র একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে জানতে চান, দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটি বাচ্চার লাশ কিভাবে পোস্টমর্টেম ছাড়া হাস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কি ভূমিকা ছিল? তারা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না? ঘটনার বিস্তারিত কী- তা জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানান, থানা পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের ডিসি এ বিষয়ে তাকে কিছুই জানাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমাকে জানানো হলে এখানে আমি তার আপডেট জানাতে পারতাম।
স্কুলছাত্র নাঈমুলের মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এর হত্যা মামলা হওয়া উচিত। আর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এসময় মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যই আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ এতো নীতিকথা বলে, তাদের রিপোর্ট, ফিচার সম্পাদকীয় দিয়ে মানুষকে নীতিকথা শেখায়। কিন্তু এতো বড় অনৈতিক ঘটনা ঘটিয়ে একটা বাচ্চার এমন নির্মম ঘটনা ঘটার পরও তারা কনসার্ট চালিয়ে গেল! তো এই কী তাদের মানবতার নমুনা? মন্ত্রিসভার সদস্যরা বলেন, প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সবাইকে মানবিকতার সবক দেন। অথচ তারাই কি এই ঘটনায় মানবিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছে- এমন প্রশ্ন রেখে মন্ত্রিসভার সদস্যরা বলেন, যারা মানবিকতার সবক দেন, নৈতিকতার সবক দেন তারা এই ঘটনার মাধ্যমে নিজেদের নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই এই ঘটনায় যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি উল্লেখ করে তারা প্রশ্ন রাখেন, তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে? একটা কোমলমতি ও নিষ্পাপ শিশু তাদের অমানবিকতার কারণেই মারা গেল? তা তদন্ত করার দাবি জানিয়ে এ ঘটনায় যদি কারো গাফিলতি বা অবহেলা পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে দ-বিধি অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের এমন তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাটা কতটা অমানবিক হতে পারে যে, বাচ্চাটা অসুস্থ হওয়ার পরও প্রথম আলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোর আলো অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ঘটনা যখন ঘটেছে তারপরেই বাচ্চাটাকে স্কুলের ঠিক বিপরীতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, এর পাশে জাতীয় হৃদরোগ ইনন্সিটিউট, কেয়ার হাসপাতাল ছাড়াও অন্যান্য আরো কয়েকটি হাসপাতাল ছিল। সেখানে বাচ্চাটিকে চিকিৎসার জন্য না নিয়ে এত দূরের মহাখালীতে আয়েশা মেমোরিয়াল (বর্তমানে ইউনিভার্সেল মেডিকেল) হাসপাতালে কেন নেয়া হলো তাকে। যদিও সেখানে নেয়া হয়েছে, তারপরও কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ স্কুলের প্রিন্সিপালকে ঘটনাটি জানায়নি। প্রিন্সিপাল জানতে পেরেছেন তখন, যখন বাচ্চাটা মারা গিয়েছে। কারণ তার স্কুলের জামায় রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের মনোগ্রাম দেয়া লোগো লাগানো ছিল। এটা দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রিন্সিপালকে ফোন করে জানায় আপনাদের স্কুলের যে শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছিল সে মারা গিয়েছে। এ বিষয়ে কিছুই অবগত না হওয়া প্রিন্সিপাল তখন জেনে যেনো আকাশ থেকে পড়েছে।
তাছাড়া দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে আয়েশা মেমোরিয়াল পর্যন্ত যেতে যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সে যেতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় ঘণ্টা। এমন হতে পারতো বাচ্চাটিকে তাৎক্ষণিক সোহরাওয়ার্দীতে নিয়ে গেলে পাম্পিং করে হলেও হয়তো বাচ্চাটাকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারতো। কারণ ইলেকিট্রক শক হলে কিন্তু একজন আক্রান্ত রোগীর হঠাৎ স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তাই তাৎক্ষণিক তাকে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে পাম্পিং করা হলে হয়তোবা বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপরই মন্ত্রিসভায় এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা কি ছিলো? কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা? তা হলে কেন নেয়া হয়নি? ঘটনায় কারো কোনো অবহেলা ছিলো কিনা? সেসব বিস্তারিত জেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে মন্ত্রিসভা। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]