• প্রচ্ছদ » » হায়াৎ মামুদ, যতীন সরকাররা চলে গেলে কার কাছে জানতে চাইবো ভাষা-শব্দ-বানানের সঠিক পথ?


হায়াৎ মামুদ, যতীন সরকাররা চলে গেলে কার কাছে জানতে চাইবো ভাষা-শব্দ-বানানের সঠিক পথ?

আমাদের নতুন সময় : 05/11/2019

জাকির তালুকদার: হায়াৎ মামুদ। ৪৭-উত্তর সময়ে ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্য গড়ে তোলার কনিষ্ঠতম সদস্যদের একজন। কতো কম বয়সে কী বিশাল দায়িত্ব তারা তুলে নিয়েছিলেন নিজেদের কাঁধে! সবই ছিলো কলকাতাকেন্দ্রিক। বই ছাপানোর মতো ভালো একটি প্রেস পর্যন্ত ছিলো না ঢাকাতে। সেখান থেকে এই দেশের উপযোগী সাহিত্যের ভাষা গড়ে তোলার কাজটি শুরু হয়েছিল তাদের হাতেই। সাহিত্যে নিজেদের পথরেখা নির্মাণ করতে হয়েছিলো তাদেরই। আমরা এখনকার লেখকরা প্রায় জানিই না শূন্য হাতে শুরু করা সেই বিশাল কর্মযজ্ঞের সৈনিকদের কথা। তাই তাদের প্রতি আমরা যথাযথ সম্মান দেখাতে পারিনি এখনো। (পুরস্কার দিয়ে তো আর সম্মান প্রমাণ হয় না)। অনেকেই চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। অনেকেই যাবেন। আমি কেবল অসহায়ের মতো ভাবি হায়াৎ মামুদ, যতীন সরকাররা চলে গেলে কার কাছে জানতে চাইবো ভাষা-শব্দ-বানানের সঠিক পথ? লিখতে লিখতে কোথাও আটকে গেলে দ্বিধাহীনভাবে দাঁড়াই তাদের দুয়ারে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাতলে দেন সঠিক শব্দ, সঠিক অর্থ। হায়াৎ মামুদ পাঁচ বছর আগেও ছিলেন সদানন্দ মানুষ। যেকোনো আড্ডায় তার উপস্থিতি ছিলো অসাধারণ জ্ঞানদীপ্ত এবং আনন্দময়। পিতৃপ্রতীম এই মানুষটিকে আমি ভাই বলে ডাকি। কিন্তু ভালোবাসি আর শ্রদ্ধা করি পিতার মতোই। সম্প্রতি দেখা হলো তার সাথে। কিন্তু সেই মানুষটি নেই। প্রশ্ন করলে উত্তর দেন অল্পকথায়। নইলে চুপ করে বসে থাকেন। স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভুগছেন। আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। পা চেপে ধরে বললাম, আমি আমার হায়াৎ ভাইকে ফেরত চাই। আপনি এভাবে চুপচাপ হয়ে যাবেন না। আপনাকে দেখে আমার কষ্ট হচ্ছে। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। সেই হাসি ফুটে উঠল মুখে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]