জাবি বন্ধ ঘোষণা, আন্দোলনকারীদের পেটালো ছাত্রলীগ

আমাদের নতুন সময় : 06/11/2019

সমীরণ রায় ও নুর হাছান : দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে তার বাসবভন ঘেরাও করে রাখে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই তাদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ আহত হন অন্তত ৩০ জন। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্র্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে হল ছাড়ারও নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আন্দোলনের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জাবির এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আন্দোলনকারীদের দায়ী করেন জাবি উপাচার্য। তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞ আমার সহকর্মীদের কাছে, আমি কৃতজ্ঞ আমার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে। আমি কৃতজ্ঞ সকল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে, বিশেষ করে ছাত্রলীগের কাছে। তারা দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটি করেছে।
তবে গত রোববার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে আন্দোলনকারী সাতজন শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে উপাচার্যকে অপসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার না করার ঘোষণা করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
গতকাল সকালে উপাচার্য সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভিসিকে বাসা থেকে বের করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে চান। এসময় উপাচার্য সমর্থক শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বাক-বিত-া শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষককেও চ্যাংদোলা করে দূরে নিয়ে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। তবে হামলার সময় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় আট শিক্ষক ও চার সাংবাদিকসহ ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আটজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। হামলায় আহত শিক্ষকরা হলেন- নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা প্রমুখ।
মারধরের সময় উপাচার্য সমর্থক শিক্ষক সোহেল আহমেদ, নাসির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, আব্দুল মান্নান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান জনিসহ কয়েকজনকে ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ ও ‘মার মার’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আল বেরুনী হলের প্রাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম, গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের অধ্যপক এটিএম আতিকুর রহমান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের প্রভাষক ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি, নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মোসাব্বের হোসেন, ইন্সটিটিউট অব রিমোট সেনসিং-এর মো. মনির হোসাইনসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আন্দোলনে থাকা শিক্ষক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এরকম ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে দেখা যায়নি। উপাচার্যপন্থী শিক্ষক ও তাদের প্রত্যক্ষ উসকানিতে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ছাত্রলীগ যখন হামলা চালিয়েছে, তখন ভিসিপন্থি শিক্ষকরা স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, আমরা শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবিরের সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ.স.ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, হামলার সময় আমরা চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]