• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » প্রত্যাহারের পরও এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জে বহাল তবিয়তে, ভোগ করছেন সরকারি সকল সুবিধা


প্রত্যাহারের পরও এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জে বহাল তবিয়তে, ভোগ করছেন সরকারি সকল সুবিধা

আমাদের নতুন সময় : 07/11/2019

বিপ্লব বিশ্বাস : বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে নিলেও দায়িত্ব নেননি অন্য কোনো পুলিশ সুপার। এমনকি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি গাড়ি থেকে সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন তিনি। জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আগামী সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জে যোগ দিতে পারেন নতুন পুলিশ সুপার।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। জেলা পুলিশ সুপারের জন্য নির্ধারিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন তিনি। এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বির্তকিত পুলিশ সুপার হারুন এর আগে গাজীপুরের এসপি থাকাবস্থায় সেখানেও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। তিনি কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করতেন বলে ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। তার ভয়ে ততকালীন সময় অনেকই ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধসহ এলাকাও ত্যাগ করেছেন। এদিকে, বদলির আদেশ হওয়া সত্যেও এসপি হারুন এখনো না যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেছেন, হারুন নারায়ণগঞ্জে আসার পরই বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতেন। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলেই নেমে আসতো মিথ্যা, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও পুলিশি হয়রানি।
তাকে প্রত্যাহার করা হলেও গত বুধবার রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস সপ্তাহের অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে স্বাগত জানাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে এগিয়ে যান এসপি হারুন। রূপগঞ্জে ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে যান এসপি হারুন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রূপগঞ্জে ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে বেলা ১১টার দিকে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় তাকে স্বাগত জানাতে এগিয়ে যান হারুন অর রশিদ। তবে গাড়ি থেকে নেমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাস্যোজ্জ্বল মুখে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় সাবেক এসপি হারুনকে ঘটনাস্থলে দেখে কিছুটা গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে তার সঙ্গে কিছু একটা বলতে দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চের দিকে চলে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসপি হারুনকে উদ্দেশ করে কী বলেছেন, এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি সেখানে উপস্থিত কোনো কর্মকর্তাই। পরে মন্ত্রী অনুষ্ঠানের মঞ্চের দিকে চলে যান এবং তার পেছনে পেছনে কিছুদূর এগিয়ে যান হারুন। তবে অনুষ্ঠান শুরু হলে অনুষ্ঠানস্থলে বা এর আশেপাশে কোথাও তাকে দেখা যায়নি।
গত ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার পদ থেকে হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহার করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের টিআর শাখায় বদলির আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছেন। গতকাল এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের সরকারি নম্বরে কথা বলার জন্য একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
গত ১ নভেম্বর রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও গুলশান ক্লাবের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে বাসা থেকে তুলে আনার অভিযোগওঠে এসপি হারুন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের বিরুদ্ধে। শওকত আজিজ রাসেলকে ফাঁসানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে দুই নম্বর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি হারুন।
পরে রাসেল ও ড্রাইভার সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু বিপত্তি বাধে শওকত আজিজ রাসেলের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে। তাতে বিষয়টি খোলাসা হয়। এরই মধ্যে দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন শওকত আজিজ রাসেল। তবে ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আছেন রাসেলের ড্রাইভার সুমন। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]