• প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » প্রথম আলো সম্পদাকের বিরুদ্ধে মামলা, আবরারের লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ আদালতের


প্রথম আলো সম্পদাকের বিরুদ্ধে মামলা, আবরারের লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ আদালতের

আমাদের নতুন সময় : 07/11/2019

লাইজুল ইসলাম, মামুন খান : ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিবা শাখার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলা জনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কিশোর আলোর প্রকাশক মতিউর রহমানের নাম উল্লেখ করে এবং কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হকের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আবরারের বাবা মজিবুর রহমান। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আবরারের লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় যে অপমৃত্যুর মামলা করেছে সেই মামলা এবং আদালতে দাখিল করা অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ১ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ।
মামলার শুনানিকালে আবরারের বাবাকে কাঁদতে দেখা যায়। এছাড়া আদালতে জবানবন্দি দেয়ার সময়ও তাকে কাঁদতে দেখা যায়।
জবানবন্দি গ্রহণকালে আদালত বাদীর কাছে জানতে চান আবরারের মৃত্যুর জন্য কাদের দায়ী করছেন? তখন বাদী বলেন, যারা অনুষ্ঠান করেছে আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য তারা দায়ী। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চায়। এদিন আবরারের মা এবং চাচাত ভাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদী আদালতের কাছে অভিযোগ করেন, গত ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোরদের মাসিক সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে নাইমুল আবরার যান। অনুষ্ঠাক চলাকালে সাড়ে তিনটার দিকে আবরার বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা অরক্ষিত ছিল। অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার যে নিরাপত্তা ও সাবধানতা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। ঘটনাস্থলের অতি সন্নিকটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল অবস্থিত হলেও আবরারকে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযোগে বলা হয়, নাঈমুল আবরার বিদ্যুৎপৃষ্ট হয় বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩ টায় আর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে ৪ টা ৫১ মিনিটে। আবরারের মৃত্যুর সংবাদ কিশোর আলো এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ গোপন করে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ আবরারের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়নি। আবরারের পরিবার এক সহপাঠীর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পান। যা একটি পরিকল্পিত, গাফিলতি এবং অবহেলাজনিত হত্যাকান্ড বটে।
অভিযোগকারী জানান, ছেলের লাশ হাসপাতালে এসে দেখেন এবং ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতবিহব্বল হয়ে পড়েন। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থায় অভিযোগকারীকে আসামীগণ নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেয়ার জন্য চাপ প্রদান করেন। এসময় অভিযোগকরী তার ছেলের লাশ দ্রুত নিতে চাইলে অভিযোগকারীকে আসামীগণ জানান যে, ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার ইচ্ছাপোষণপূর্বক মুচলেকা প্রদান করলে অভিযোগকারীকে তার লাশ অতি অল্প সময়ে হস্তান্তর করা হবে। এসময়ে অভিযোগকারীকে ভুল বুঝিয়ে তার কাছ থেকে উপরোক্ত মর্মে একটি লিখিত নিশ্চয়ন পত্র নেওয়া হয়। ফলশ্রুতিতে নাঈমুল আবরার রাহাতের লাশ পোস্টমর্টের ছাড়াই মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করিয়া নাঈমুল আবরার রাহাত এর লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগকারী আদালতে বলেন, নাঈমুল আবরারের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ঘটনা দৃশ্যমান হতে থাকে । তার মৃত্যুর খবরে ববস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। তারা সেখান থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে সিসি টিভির ফুটেজ প্রদানসহ চারদফা দাবি তুলে ধরেন। তারা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের লিখিত বক্তব্য দাবি করেন এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের হাতে পৌছানোর দাবি জানান।
বাদি অভিযোগ করেন, উপরোক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মিয়েছে যে, নাঈমুল আবরারের মৃত্যু কোন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা অপমৃত্যু নয়। বরং আসামিদের চরম অবহেলা, অযতœ, অমনোযোগী, গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসার অবহেলা এবং অসাবধানতার কারণে আবরারের মৃত্যু হয়েছে এবং আবরারের মৃত্যুর জন্য তারা দায়ী বলে বাদী দাবি করেন। বাদী আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]