• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশি-কানাডিয়ান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা


বাংলাদেশি-কানাডিয়ান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা

আমাদের নতুন সময় : 07/11/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : একজন উত্তম শিক্ষক হওয়ার ধারণাটি ব্যক্ত করেছেন কানাডার সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত লেকহেড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত সাবেক চেয়ারম্যান বাংলাদেশি-কানাডিয়ান অধ্যাপক ড. সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অপরাপর কর্মের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এবং তাতে কর্তব্যটি হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের মাঝে আশাবাদের সঞ্চার ঘটানো, ফলশ্রুতিতে তারা যেন হয়ে ওঠে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা।’ তিনি একাধারে ২০০৫ সালে লেকহেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষকতায় অবদান সূচক’ পুরস্কার, ২০০৮ সালে ‘সম্মানিত গবেষক’ পুরস্কার, ২০০৯ সালে ‘সম্মানিত শিক্ষাদান’ পুরস্কার এবং আগের বছর ২০০৮ সালে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মাঝে সেরা ৩৮ প্রভাষক হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আইন; দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি; জাপান, চীন ও ভারতের রাজনীতি; তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে অসামান্য পান্ডিত্যের অধিকারী। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর বহু দেশে বসবাস ও শিক্ষকতা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটি হচ্ছে পারস্পরিক বা দ্বিপাক্ষিক, যেখানে শিক্ষক হচ্ছেন আদর্শ। পুরোটাই দৃষ্টিভঙ্গীর বিষয়। তিনি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীর জন্য শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু জানার আগ্রহ বা দৃষ্টিভঙ্গী এবং ব্যক্তিত্বের গুণগত উপলব্ধিটি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা স্কলারশীপের চেয়ে কম বিবেচিত নয়।’ শিক্ষকতার ক্ষেত্রে এই প্রতিথযশা অধ্যাপকের ১০টি পরামর্শ হচ্ছে: অপরিবর্তনীয় পাঠ্যক্রমের পরিপূর্ণ অতি স্বচ্ছতায় তুলে ধরা; পাঠ্যক্রমের শোভাবর্ধনে অপ্রয়োজনীয় বইয়ের তালিকা প্রণয়ন না করা; সবিশেষ প্রশ্নমালা তুলে ধরা, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তুটি আবশ্যিকভাবে অবধারন করে; বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি পরিমাপ ও অনুরূপভাবে শিক্ষাদানের বক্তব্য বা লেকচার নির্ধারণ করা; শিক্ষাদানে নিজের সাগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রশান্তির আবহ সৃষ্টিতে হাস্যরস জোগানো; পাঠ্যক্রম বিষয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা; ১০ বছর পর শিক্ষার্থীরা কী মনে রাখবে তেমনটাই প্রতিটি শিক্ষাদানের বক্তব্যে তুলে ধরা; পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা; যদি তিন ঘন্টার ক্লাস হয়, সেক্ষেত্রে প্রথম ঘন্টায় লেকচার শেষ করা এবং বাকি দুই ঘন্টায় আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনের সুযোগদান নিশ্চিত করা, যাতে তারা বিষয়টি আগে থেকেই পড়ে আসে এবং পাওয়ার-পয়েন্টের ব্যবহার তখনই করা, যখন তা শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য ও সম্যক জ্ঞান অর্জিত হয়। সাধারণত, শিক্ষার্থীরা পাওয়ার-পয়েন্ট উপস্থাপিত বিষয়বস্তু অবধারণে অমনোযোগী হয়ে ওঠে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]