রেলওয়ের রাস্তার ওপর চলছে হাট-বাজার

আমাদের নতুন সময় : 08/11/2019

শাহীন খন্দকার : সমান্তরাল বয়ে চলা রেললাইনের দুপাশে প্রতিদিন দোকানের পসরা নিয়ে বসে থাকা লোকজন যেন একটু বেশি বেখেয়ালি। শুধু শখের বশে কি বেখেয়ালী হয় তারা ? আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে যারা এসব মানুষকে ডেকে আনে জীবনের শেষ স্টেশনে, তারা যেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। লোভী ও ক্ষমতার দাপট দেখানো একদল লোক নিয়ম ভেঙ্গে প্রতিদিন রেললাইনে গড়ে তোলে মৃত্যুর ফাঁদ। আর এফাঁদে পা’দেয় সাধারণ দোকানি ও বিক্রেতারা। এই দোকানিদের-ই বা কী দোষ! একখন্ড বসার জায়গায় দু-একটা মাছ, কিছু সবজি ও ফল বিক্রি করে যে মেটাতে হয় পেটের দায়। নিয়মনীতি তদারকি করার দায়িত্ব যাদের হাতে, সেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে একটু বেশিই নিরব। সারাদেশে প্রায়ই প্রাণ ঝরে কয়েক মুহূর্তের লোক- দেখানো উচ্ছেদ অভিযান, এরপর আবার আগের সেই একই অবস্থা।
রেলওয়ের সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭৯ অনুযায়ী রেলওয়ে সম্পত্তিতে কারও বেদখল হলে দায়ী ব্যক্তিকে সাত বছর পর্যন্ত জেল অথবা জরিমানাসহ উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। এ আইন অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় দায়ী ব্যক্তিকে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এ বিচার চলবে। আবার দেওয়ানি কার্যবিধিও ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োগ হবে এবং অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে, রেললাইনের দুই পাশে ১১ ফুট জায়গা খালি রাখার নিয়ম রয়েছে।
আইন মানছে না গাজীপুর রেল স্টেশন খিলক্ষেত রেললাইন ঘেঁষে পাইকারি কাঁচাবাজারের ব্যাবসায়িরা মানছে না নিয়মনীতি! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা। এই বাজার শুরু হয় ভোররাত থেকে, শেষ হয় দুপুরের মধ্যে। বাজারটি গত ১৫-২০ বছর আগে থেকেই চলছে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দোকান (বিট) আছে ১০৪টি। একেকটি দোকান থেকে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশত টাকা ওঠানো হয়। প্রতিদিন ভোরের আলো আবির ছড়ানোর আগেই এই প্রতি দোকান থেকে মনির মোল্লা নামে জনৈক ব্যক্তি। এই টাকা থেকে ১২০ টাকা পান আসলাম উদ্দিন। বাকি ২০০ টাকা পান দোকানের জায়গা যার দখলে, যিনি । সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মনির মোল্লা বাজারে আসেন।
তিনি একে একে দোকানিদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। মনির যাওয়ামাত্রই ব্যবসায়ীরা টাকা বের করে দিচ্ছিলেন। একজন ব্যবসায়ী বলেন, মনির আর আসলামের বাসা পাশাপাশি। খিলক্ষেত মধ্যপাড়ার মাতবরের মসজিদের কাছেই তাঁদের বাসা। রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ বাজার প্রসঙ্গে রেলওয়ের সম্পত্তি বিভাগের কমিশনার নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, ইতিমধ্যে এফডিসি থেকে কাওরান বাজার তেজগাঁ দুইদ্বারে সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে । আশা করছি, এই খিলক্ষেত রেলওয়ে সম্পত্তির ওপর অবৈধ বাজার উচ্ছেদ দ্রুত করা হবে। তবে এ জন্য স্থানীয় সবার সহযোগিতা লাগবে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা রেলের জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে বাজার ও দোকান বসিয়ে টাকা ওঠাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]