• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » অযোধ্যায় বিতর্কিত জায়গায় মন্দির বানানোর পক্ষে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, মসজিদ নির্মাণে বিকল্প জমি পাবে মুসলিমরা


অযোধ্যায় বিতর্কিত জায়গায় মন্দির বানানোর পক্ষে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, মসজিদ নির্মাণে বিকল্প জমি পাবে মুসলিমরা

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2019

রাশিদ রিয়াজ : অযোধ্যা মামলায় সর্বসম্মতিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ে শর্তসাপেক্ষে বিতর্কিত জমি দেওয়া হয়েছে রাম জন্মভূমি ন্যাসকে। অযোধ্যাতেই ৫ একর বিকল্প জমি দেয়া হবে মুসলিম পক্ষ বা সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে। শর্তসাপেক্ষে ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমি পাবেন হিন্দুরা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ওই জমি রামলালারই। একইসঙ্গে কেন্দ্রকে তিন মাসের মধ্যে ওই জমিতে মন্দির তৈরির জন্য ট্রাস্ট গঠনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত। ট্রাস্টের নজরদারিতেই তৈরি হবে রামমন্দির। ট্রাস্টে রাখতে হবে নিমোর্হী আখড়ার প্রতিনিধিদের। টাইমস অব ইন্ডিয়া/দি হিন্দু/হিন্দুস্তান টাইমইস/ এনডিটিভি/আনন্দবাজার।
এই মামলায় বিতর্কিত জমির দখল নিয়ে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে রায় দিয়ে শিয়া বোর্ডের দাবি খারিজ করে দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে নির্মোহী আখড়ার ‘সেবায়েত’ হওয়ার দাবি খারিজ করে দেন সুপ্রীম কোর্ট। আর্কেলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে সিলমোহর দিয়ে রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, ‘ফাঁকা জমিতে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়নি। এর আগে সেখানে অমুসলিম সৌধের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে সেই কাঠামো ভাঙা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।’ একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দেন, ১৯৪৯ সালে মূল গম্বুজের নিচে রামের মূর্তি স্থাপন করা মসজিদের অবমাননার শামিল। ফলে ১২ বছর পর দায়ের করা হলেও সুন্নি পক্ষের মামলা বিচার্য। ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ রায় পড়েন। বেঞ্চে আরো ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আবদুল নাজির।
রায়ের শুরুতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানান, কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার না হরণ করে। ভারতের সংবিধান সব ধর্মকে সমান অধিকার দিয়েছে। বিচারপতিরা রায়ে জানিয়েছেন, মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ না পাওয়া গেলেও ফাঁকা জমিতে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়নি। এর নীচে পুরনো অনেক বড় কোনও নির্মাণ বা কাঠামো রয়েছে। তবে সেখানে কোনও মন্দির ভাঙা হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়। খননকার্যের রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে বলা হয়েছে ওই ধ্বংস হওয়া কাঠামো কোনও ইসলামি স্থাপত্য নয়।
পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের এ রায়ে বলা হয় বাবরি মসজিদে প্রার্থনা করতেন মুসলিমরা। সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারি না। জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারেননি মুসলিমরা। বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে না আইন। ওই জায়গায় জন্মেছিলেন রাম, এটা হিন্দুদের বিশ্বাস। বিভিন্ন বইয়ে তার উল্লেখ আছে। সেই বিশ্বাসও এভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তবে সেই দাবির বিরোধিতাও কেউ করেনি।
ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ আরো বলেন, বাবরি মসজিদের জমি তিন ভাগে ভাগ করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ব্রিটিশরা আসার আগেও অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে যে হিন্দুরা পুজো করত, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্টে মান্যতা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। নির্মোহী আখড়ার দাবি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট আরো বলেছে, খনন কাজের প্রমাণ অস্বীকার করা যায় না। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, কারো বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার হরণ না করে।
এর আগে চলে ২৬ বছর আইনি যুদ্ধ। শুধু সুপ্রিম কোর্টেই মামলা চলেছে ৮ বছর ৫ মাস ১২৩ দিন। শেষ পর্যায়ে টানা ৪০ দিন ধরে শুনানি চলে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]