মেজর গণির অবদান আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বললেন নুরুদ্দীন খান

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2019

আসিফ কাজল : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনা প্র্রধান মোহাম্মদ নুরুদ্দীন খান বলেছেন, মেজর গণির অবদানের কারণেই আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্র্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ জাতি হিসেবে আমরা তাকে প্র্রাপ্র্য সম্মান দিতে প্রারিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া হেলমেট হলে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর প্র্রতিষ্ঠাতা মেজর আবদুল গণি’র ৬৩তম মৃত্যু দিবসে আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। অবসরপ্র্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সংঘ (রাওয়া) ও মেজর গণি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মেজর খন্দকার নুরুল আফসার (অব.)।
সাবেক সেনা প্র্রধান মেজর জেনারেল (অবঃ)আতিকুর রহমান মেজর আবদুল গণিকে স্মরণ করে বলেন, শুধুমাত্র ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর প্র্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর অন্যতম প্র্রতিষ্ঠাতা। ওই সময় সেনাবাহিনীর প্রতি ভীতি ছিলো তৎকালীন যুবসমাজের। পরিবারও চাইতেন না তার সন্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করুক। সেই ভীতি ভেঙ্গেছিলেন মেজর আবদুল গণি। ৬৩ বছর পর হলেও তাকে প্রাপ্য সম্মান জানানো শুরু হয়েছে।
স্মরণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাওয়া সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল মো. সামসুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপ্রস্থাপন করেন কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মেজর গণি পরিষদ মহাসচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভূইয়া।
আলোচনা সভায় মেজর জেনারেল এ এল এম ফজলুর রহমান (অব.) বীরপ্রতিক বলেন, এই বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিলো বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই রেজিমেন্ট ছিলো বলেই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ট্রেনিং দেয়া সম্ভব হয়েছে। এই ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট থাকার জন্যই মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ জনকে কমান্ডার ও সাব কমান্ডার করা সম্ভব হয়েছিল।
মেজর আবদুল গণির ভাগ্নে ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদ রাওয়া ক্লাব যে স্বীকৃতি দিয়েছে তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তান মিলিটারিতে তিনিই প্রথম বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা, যিনি বাংলা ভাষায় কথা বলার দাবি জানিয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সূচনাকারী মেজর গণি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অথচ দেশের প্রতি তার এ আতœত্যাগ প্রচার হয় না। সভায় মেজর গণি পরিষদের পক্ষ থেকে বাঙ্গালীর ইতিহাসের এই কৃতি সন্তানের অবদান সরকারি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মেজর গণি পরিষদ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ ১২ দফা দাবি পেশ করেন। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- রাষ্ট্রীয়ভাবে ও সরকারিভাবে তার জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন, জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান, জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড তার নামে নামকরণ, স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকে তার জীবনী প্রকাশ, কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাস তার নামে নামকরণ।
তার অদম্য চেষ্টায় ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৪ সালে অবসর নেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার রাজনৈতিক জীবন। বুড়িচং ব্রাক্ষণপ্রাড়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ, আর্মি স্টাফ কলেজ, সামরিক একাডেমী, চন্দ্রঘোনা পেপার মিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৭ সালের নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জার্মানির বন শহরে পূর্ব প্রাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেব আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের সংগঠন (ওয়াল্ড ভেটার‌্যান) যোগ দেন। নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ আকস্মিকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অবঃ) কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামান, বীর বিক্রম, মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অবঃ) শাহেদুল আনাম খান, মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক প্রমুখ। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]