• প্রচ্ছদ » » লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি করে কতোজন বড় বিজ্ঞানী, ভালো রাজনীতিবিদ, বড় অর্থনীতিবিদ, বড় ইঞ্জিনিয়ার ও বড় চিকিৎসক হয়েছেন?


লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি করে কতোজন বড় বিজ্ঞানী, ভালো রাজনীতিবিদ, বড় অর্থনীতিবিদ, বড় ইঞ্জিনিয়ার ও বড় চিকিৎসক হয়েছেন?

আমাদের নতুন সময় : 09/11/2019

কামরুল হাসান মামুন : আমাদের দেশে দুটো আন্তর্জাতিক বিশ্বববিদ্যালয় আছে। এর একটি হলো ওটঞ বা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি। এটি ঢাকার পাশেই গাজীপুরে অবস্থিত। এ তো ড়ৎমধহরুধঃরড়হ ড়ভ রংষধসরপ পড়ড়ঢ়বৎধঃরড়হ বা ঙওঈ একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। তেলসমৃদ্ধ দেশের পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও এখানে পড়াশোনা বেশ ব্যয়বহুল। প্রতি ছাত্রের পেছনে খরচ হবে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলার। যদিও টাকার অঙ্ক নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। কমবেশি হতে পারে। তবে যেটাই হোক আমাদের দেশের পারসপেক্টিভে ব্যয়বহুল। আরেকটি হলো এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন (অটড)। এটি চিটাগাংয়ে অবস্থিত এবং সত্যিকার অর্থেই এটি একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। এর অর্থায়নসহ অন্যান্য সহোযোগিতায় আছে আমেরিকা, জাপান, ব্রিটেন, কুয়েতসহ কয়েকটি দেশ।

এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা অনেকেই জানেন না। নাম শুনলেও বেশি কিছু জানেন না। এরা নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। কেউ কিন্তু দাবি করছে না যে ‘ওখানে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির অধিকার দিতে হবে’। কেউ কোনোদিন কিন্তু বলেননি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, কিন্তু সমাজ সচেতনতা শিখবে না এ কেমন শিক্ষা? ওখানে শিক্ষক নিয়োগে কি রাজনীতি আছে? ওখানকার ভিসি নিয়োগে কি রাজনীতি আছে? ওই দুটোত আমাদের দেশেই এবং আমার দেশের অনেকেই ওখানে পড়ছে। জনগণের করের টাকায় চললেই বুঝি যা ইচ্ছে তা করার লাইসেন্স পেয়ে যাই? কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। জনগণের টাকায় চলে বলেই ছাত্রদের অভিভাবকদের চাওয়ার কোনো মূল্য নেই, তাদের সন্তানের জীবনের মূল্য নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জনগণের করে চলে মানে সবার কান্ট্রিবিউশন আছে। বাবা-মায়েরা সরাসরি যৎসামান্য খরচ করে বলে ক্ষমতাবানরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলার অধিকার পেয়ে যায়। গরিবের বউ সবার ভাবি হওয়ার অবস্থা। শিক্ষক হিসেবে যাকে ইচ্ছে তাকে নিয়োগ দিলাম, শিক্ষক হয়ে না শিক্ষক না রাজনীতিবিদ হওয়ার সুযোগ দিলাম তাহলে কি এভাবে আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে? অন্যের সন্তানদের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করার অধিকার আমাদের কে দিয়েছে? একদল ছাত্রকে আরেকদল ছাত্র-শিক্ষকদের হামলা করতে লেলিয়ে দেয়ার অধিকার আমাদের কে দিয়েছে? ন্যূনতম দায়বদ্ধতা থাকলে এ রকমটি চলতে পারতো না। সম্প্রতি শুনলাম আমাদের সরকারপ্রধান বলছেন ‘সরকার টাকা দেয়’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় টাকার খোটা দেবেন না প্লিজ। সরকার টাকা দেয় না। জনগণ টাকা দেয়। সরকার কেবল জনগণের টাকার জিম্মাদার এবং ব্যবহার করার জন্য জনগণ কর্তৃক নিয়োজিত সেবক। সেবক হয়ে মালিকের ন্যায় কথা বলবেন না।

আমার দুই বন্ধুর দুই মেয়ে পড়ে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কেন ওটঞ পছন্দ করে। এই কথায় উত্তর : এখানে কোনো রাজনীতি নেই। সন্তানকে ওখানে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় না। আমার ধারণা বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া গার্ডিয়ানদের মতামত চাইলে তারা সবাই একবাক্যে বলবেন আমরা রাজনীতিমুক্ত একটি ক্যাম্পাস চাই। এই চাওয়াটা একটু বেশি চাইল্ডিশ বা ইনোসেন্ট মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই সত্য। প্রত্যেক সন্তানের পিতা-মাতা এবং আপনজন চান তাদের ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে মানুষ হবে। কথাটা কিন্তু পড়াশোনা করে মানুষ হওয়া। মানুষ হওয়া মানে কী? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি না করলে মানুষ হওয়া যায় না? ছাত্ররাজনীতি করে কতোজনের জীবন ধ্বংস হয়েছে? লেজুড়বৃত্তির এই ছাত্র রাজনীতি করে কতোজন বড় বিজ্ঞানী, ভালো রাজনীতিবিদ, বড় অর্থনীতিবিদ, বড় ইঞ্জিনিয়ার, বড় ডাক্তার হয়েছেন? হার্ভার্ড এমআইটি ক্যামব্রিজে পড়ে কী সবাই লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি করেই বড় হয়? যদি করতো তাহলে কী এসব বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীসেরা হতে পারতো? আমাদের এসব নিয়ে ভেবে আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সত্যিকারের শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বর্তমানে যা হচ্ছে সেটা হলো তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পরিবেশ তৈরি করেছি এবং সেই কারণেই সমাজে আজ ভালো মানুষের এতো অভাব। সব চোর, বাটপার, লুটেরা, মিথ্যুক দিয়ে দেশটা আজ সয়লাব হয়ে গেছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]