• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহারে ভারতীয় কংগ্রেসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া


গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহারে ভারতীয় কংগ্রেসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

আমাদের নতুন সময় : 10/11/2019

ইমরুল শাহেদ : ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গান্ধী পরিবারের সদস্য সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিশেষ নিরাপত্তা এসপিজি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন থেকে গান্ধী পরিবারকে জেড প্লাস নিরাপত্তা সদস্য সিআরপিএফ কম্যান্ডোরা নিরাপত্তা দেবেন। সরকারের যুক্তি হলো গান্ধী পরিবারের সদস্যদের উপর সরাসরি কোনও আক্রমণের আশঙ্কা নেই বলে নিরাপত্তা কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগাস্ট মাসে সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নিরাপত্তাও কমিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুপ সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস উচ্চ পর্যায়ের সদস্যরা। সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এই সিদ্ধান্তকে এক ধরনের পাগলামি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তিহার জেল থেকে এক টুইটে বলেছেন, ‘সরকার একটা জঘন্য ও পাগলা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘¯্রষ্টা যখন কাউকে ধ্বংস করে, তার আগে তাকে পাগল করে দেয়।’ কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, ‘নিরাপত্তা না-নেওয়াই যদি কারণ হয়, তা হলে প্রধানমন্ত্রীও দোষী। প্রধানমন্ত্রী ফটো তোলার সময়ে এরপর পৃষ্ঠা ৭, সারি
(শেষ পৃষ্ঠার পর)ধারে কাছে কেউ ঘেঁষতে পারেন না। এমনকি তার রক্ষীরাও নন। যাতে ফটো খারাপ না-হয়। অথচ, নিয়ম মতো প্রধানমন্ত্রীর চার পাশে সব সময়ে এসপিজি কর্মীদের থাকার কথা। দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এসপিজির ব্লূ-বুক মেনে চলেন না। এমনকি একটি তথ্যচিত্রের শুটিংয়ের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভেলার আশপাশে কোনও নিরাপত্তা রক্ষীকে দেখা যায়নি। এটা নিরাপত্তার গাফিলতি নয়? রাহুলের নিরাপত্তাজনিত নিয়ম ভাঙা নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তা হলে এ নিয়ে কেন উঠবে না?’ কংগ্রেসের প্রশ্ন, রাহুল গাড়ির মাথায় চড়েছেন বলে শাসক শিবির তার বিরুদ্ধে মোটর ভেহিক্যাল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। রাহুল যদি দোষী হন, তা হলে প্রধানমন্ত্রী কেন ছাড় পাবেন? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার।
গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা হঠিয়ে নিলে এখন কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় থাকবেন। এসপিজি নিরাপত্তা স্থির হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর মতন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তবে যেহেতু গোয়েন্দা সংস্থাগুলি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া আর কারও কাছে জবাবদিহিতে বাধ্য নয়, ফলে নিরাপত্তা বিষয়ে ছলচাতুরি হতেই পারে।
এসপিজি হল একটি এলিট বাহিনী যারা দেশের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের পরিবারের কাছের সদস্যদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। এই বাহিনীতে ৩০০০ সদস্য রয়েছে। গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা বাতিল হওয়ায় এখন কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদীই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় থাকবেন।

১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী নিজের দেহরক্ষীদের হাতে নিহত হওয়ার পর, রাজীব গান্ধী সরকার প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ক্যাডার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৯ সালে ভিপি সিং ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর এসপিজি আইন সংশোধন করা হয় এবং সংশোধিত আইনে সমস্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাদের পরিবারকে অন্তত ১০ বছর নিরাপত্তা দেওয়ার বিধি তৈরি হয়।
২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসপিজি আইনে ফের সংশোধন করা হয় এবং ন্যূনতম ১০ বছরের সময়সীমাকে ন্যূনতম এক বছর করা হয়। এর পর তারা ওই নিরাপত্তা পাবেন কিনা তা স্থির করবে সরকার, এ কথাও বলা হয় সংশোধিত আইনে। বাজপেয়ী সরকারের আমলে এইচ ডি দেবগৌড়া, আই কে গুজরাল এবং পি ভি নরসীমা রাওয়ের মতন সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাহৃত হয়। তবে বাজপেয়ী নিজে কিন্তু তার মৃত্যু অবধি এসপিজি নিরাপত্তার সুবিধা ভোগ করেছিলেন। বর্তমান এসপিজি আইনানুসারে, কোনও বর্তমান বা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। মনমোহন সিংয়ের মেয়াদ শেষ হবার পর এসপিজি নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তার মেয়ে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]om