• প্রচ্ছদ » » বর্তমানে সংবাদ ঠিক করে দেয় গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শওকত মাহমুদ


বর্তমানে সংবাদ ঠিক করে দেয় গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শওকত মাহমুদ

আমাদের নতুন সময় : 11/11/2019


মঈন মোশাররফ : ইকোনোমিক টাইমস-এর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ ডয়চে ভেলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমরা ১০-১১ বছর ধরে মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছি। কারণ এক এগারোর সময় মিডিয়ার যেভাবে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিলো তারপর নির্বাচিত সরকার এসে আরো বেশি করে সংবাদমাধ্যম, সংবাদপত্রে স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
গত ৮ নভেম্বর প্রকাশিত এ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু কালো আইন দেখেছি। ডিজিটাল আইন, তার আগে আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যথেচ্ছভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব কারণে এখন সাংবাদিকরা সেল্ফ সেন্সরশিপের মধ্যে রয়েছে। অনেক ভৌতিক বাধা আছে। বলবো না যে আগের মত তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রেস অ্যাডভাইস আসে। এখন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ফোন আসে এটা দেয়া যাবে না, ওটা দেয়া যাবে না। আমার মনে হয় সাংবাদিকেরা এখন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে আছেন ।

এই পরিস্থিতির জন্য আপনি প্রধানত কাদের দায়ী করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য আমি মূলত শাসক দলকে দায়ী করবো। একইসঙ্গে আমি আমলাতন্ত্রের কথাও বলবো। বিচার বিভাগের ক্ষেত্রেও একধরণের আতঙ্ক আছে। আদালত অবমাননার জন্য দাঁড় করানো হয়েছে। প্রশাসনিক বাধাও আছে। সামাজিকভাবে সাংবাদিকরা আতঙ্কে আছেন ।
অধিকার আদায়ে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অতীতের মত সাংবাদিকরা এখন কেন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছেনা? এ প্রশ্নে শওকত মাহমুদ বলেন, এখন যারা বিরোধী দল সমর্থিত সাংবাদিক তারা আন্দোলন করছেন। আর যারা সরকার সমর্থক সাংবাদিক রয়েছেন তারা এই ধরনের আন্দোলনকে উৎসাহিত করেন না অংশও নেন না। আমরা সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। পরে তারা আলাদা হয়ে গেল। সরকার কতগুলো ক্ষেত্রে ঘুষের মত দেয়। যেমন যেদিন পার্লামেন্টে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস হয়, সেদিন সরকার সমর্থক দু’শতাধিক সাংবাদিককে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ২০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেয়া হয়।

তাহলে সাংবাদিকতার ভবিষ্যতকে আপনি কিভাবে দেখেন বাংলাদেশে? এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকরা এখন প্রান্তিক মানুষে পরিণত হয়েছেন। শুধুমাত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নয়, এখন শত শত সাংবাদিক ছাটাই হচ্ছে, চাকরি হারাচ্ছে। এর কোনো প্রতিকার নেই।
সাংবাদিকেরা এখন নীতি নির্ধারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা কেন রাখতে পারছেন না? এ প্রশ্নে শওকত মাহমুদ বলেন, যার নীতি নির্ধারক তাদের মধ্যে যদি লজ্জা বোধ না থাকে তাহলে তো তারা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেবেন না। তারা যদি মনে করেন কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি প্রকাশ হলে কিছু এসে যায় না তাহলে তারা সংবাদ মাধ্যমকে কেন গুরুত্ব দেবেন?
সাংবাদিকদের এই সরকার সমর্থক বা বিরোধীদল সমর্থক হওয়ার পিছনে কি শুধু আদর্শিক কারণ না অন্য কোনো কারণ বা স্বার্থ আছে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমত: সরকার সমর্থক হলে সাংবাদিকতার চাকরির ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। দ্বিতীয়, সরকার সমর্থক হলে অনেক সামাজিক সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন সাংবাদিকেরা জায়গা পেয়েছেন, জমি পেয়েছেন অনেক। বিদেশ ভ্রমণ সরকারি টেলিভিশনের সদস্য হলে অনেক সহজ হয়ে যায়। আরো অনেক সুবিধা আছে ।

তারপরও ভবিষ্যতে কেমন সাংবাদিকতার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলে সাংবাদিকতা ফোর্থ স্টেট বা ওয়াচ ডগের কাজটি করতে পারবে। তবে এর জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে কেন সাংবাদিকতা করবো। সেটা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, নিজের জন্য না দলের জন্য?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]