• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছেন মেজর এম এ গণি


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছেন মেজর এম এ গণি

আমাদের নতুন সময় : 11/11/2019


আবদুল অদুদ : মেজর এম এ গণি বাঙালি সৈনিক ও রাজনীতি সচেতন মানুষের কাছে সুপরিচিত একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি বিস্ময়, যিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জনক হিসেবে সুপরিচিত। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পাকিস্তানের নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার ফ্রাঙ্ক মেসার্ভির অনুমতি নিয়ে মেজর আবদুল গণি পূর্ব বাংলার যুবকদের নিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই এ রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়নের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮-এ। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল রেজিমেন্টের আত্মত্যাগ ও অসাধারণ অবদানের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’। গত ৯ নভেম্বর সাবেক সেনাপ্রধান নুরুদ্দিন খান জানান এ তথ্য। মেজর আবদুল গণি ১৯১৫ সালের ১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার নাগাইশ গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৩৩ সালে সবুজ কোর্তা সমিতি গঠন করেন। লেখাপড়া শেষে কলকাতা ফায়ারব্রিগেড কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

বার্মায় সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন তিনি। যুদ্ধ শেষে দেশ বিভাগের পর বাঙালি যোদ্ধাদের নিয়ে দু’টি মুসলিম ইউনিট গঠন করেন। তার অধিনায়কত্বে এ রেজিমেন্ট ১৯৪৭ সালে সেপ্টেম্বরে ঢাকার কুর্মিটোলায় কার্যক্রম শুরু করে। তার অদম্য চেষ্টায় ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৪ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার রাজনৈতিক জীবন। বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ, আর্মি স্টাফ কলেজ, সামরিক একাডেমি, চন্দ্রঘোনা পেপার মিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫৭ সালের নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জার্মানির বন শহরে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেব আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের সংগঠন (ওয়ার্ল্ড ভেটার‌্যান) যোগ দেন। নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ আকস্মিকভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দেশের জন্য গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মেজর এম এ গণিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৮১ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা প্রদক প্রদান করেন। লেখক : সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]