• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » সুন্দরবনকে বাঁচাতে অবিলম্বে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ করতে হবে, বললেন ড. আইনুন নিশাত


সুন্দরবনকে বাঁচাতে অবিলম্বে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ করতে হবে, বললেন ড. আইনুন নিশাত

আমাদের নতুন সময় : 11/11/2019


আমিরুল ইসলাম : ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বরারবরের মতো সুন্দরবনই বাংলাদেশের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকারী সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য আমরা কতোটুকু তৎপর? সুন্দরবন আমাদের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাকে রক্ষা করার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন জানতে চাইলে পানিসম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, সুন্দরবনকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে সুন্দরবনে উজান থেকে মিঠাপানি সংগ্রহ করা। পাংশার কাছে প্রস্তাবিত গ্যাঞ্জেজ ব্যারেজ অবিলম্বে নির্মাণ করলে সুন্দরবন রক্ষা পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে দু’শ বছর আগে সুন্দরবন পুরো উপকূলজুড়ে বিস্তৃত ছিলো। একমাথায় কলকাতার হুগলি নদী আর ভাগীরথী আরেক মাথায় তেঁতুলিয়া নদী ছিলো। একশ বিশ বছর আগে ব্রিটিশরা চাষের জমি বাড়ানোর জন্য বর্তমানে সুন্দরবনের যেটুকু রিজার্ভ ফরেস্ট আছে সেটুকু রেখে বাকিটুকু মানুষের হাতে ছেড়ে দেয়। পটুয়াখালী, ররগুনায়ও প্রচুর জঙ্গল ছিলো, বন ছিলো। ঝড়ের শক্তিটাকে কমাতে সাহায্য করতো। ঝড় তো চিরকাল ধরেই হয়ে আসছে। এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হেনেছে মূলত ভারতে। ভারতের সুন্দরবন অতিক্রম করে আমাদের সুন্দরবন অতিক্রম করে ভেতরে এসেছে। এর ফলে ঝড়ের শক্তি অনেকটা কমে গেছে। সুন্দরবন পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে যার ফলে জলোচ্ছ্বাসটা কমে আসে। যে কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত আছে পুরো উপকূলে যেখানেই নতুন চর ওঠবে সেটাকে বনায়নের আওতায় আনতে হবে যাতে করে ঝড়টাকে সে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কাজেই ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোর জন্য সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্পর্কে মানুষ জানে এবং সুন্দরবনকে রক্ষা করা আমাদের অতীব প্রয়োজন।
এখন অসুবিধাটা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানির স্তর একটু একটু উঁচু হচ্ছে। উঁচু হওয়ার কারণে লবণাক্ততা বাড়ছে। সুন্দরবনে আগে যে লবণাক্ততা ছিলো সেই তুলনায় এখন অনেক বেশি। এটা আস্তে আস্তে সুন্দরবনের গাছগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর বলে যেসব গাছ লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসবের প্রধান হচ্ছে সুন্দরী গাছ। যে গাছ লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে তাদের সংখ্যা বেড়ে যাবে। যেমন : গুরান। গুরান হচ্ছে চিকন গাছ, সুন্দরী হচ্ছে মোটা গাছ। অর্থাৎ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে আজ থেকে একশ বছর পর। হরিণের খাবার কমে যাবে, বাঘের সংখ্যা কমে যাবে। মাছের প্রজাতি যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো পরিবর্তিত হবে। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০তে যে আশি প্রকল্প রিকমেন্ট করা আছে তার একনম্বর প্রকল্পই হচ্ছে গ্যাঞ্জেজ ব্যারেজ। কাজেই সরকারের নিজস্ব যে রিকমেন্ডেশন সুন্দরবন রক্ষা করার জন্য সেটা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে গঙ্গাচুক্তি হওয়ার পর যতোটুকুই পানি পাওয়া যায় সেটা থেকে পনেরো হাজার কিউসেক পানি খুলনার দিকে দেয়া। আমি মনে করি এখন এই কাজটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

আওয়ামী লীগে খারাপ লোকদের
দরকার নেই, বললেন কাদের

সমীরণ রায়: গতকাল রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা নেতাদের এক মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, সারাদেশের যে কোনো শাখার বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিতে হবে। আমাদের দল ভারী করার দরকার নেই। দলের বিতর্কিত ও খারাপ ব্যক্তিদের সব কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের দল অনেক বড়, ভেতরে অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু নেত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা আমরা সমাধান করবো। এ কারণে শুদ্ধি অভিযানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিতর্কিত ব্যক্তিদের দল থেকে বাদ দিতে হবে। দল করতে হলে নিয়ম মানতেই হবে। নিয়মের বাইরে গেলে সে যে-ই হোক ক্ষমা করা হবে না। নেত্রীর নির্দেশ মতো সবাইকে চলতে হবে।
ভারতের বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, বাবরি মসজিদের ব্যপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, এটি ভারতের উচ্চ আদালতের রায়, যা তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর প্রয়োজন আমরা মনে করি না।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাতই করলো না। আমাদের এই ভূখ-ে আসার আগে দুর্বল হয়ে গেছে, এটা মিডিয়ার খবর। সারাদেশে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর আমরা পাইনি। জান-মালের কোনো ক্ষতির খবরও আসেনি। অথচ এর মধ্যেই মির্জা ফখরুল বলে দিয়েছেন, সরকার ব্যর্থ। এর আগেও বাজেট ঘোষণার আগেই তারা বলেছিল এটা গরিবমারা বাজেট।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বিষয়ে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি তা পর্যবেক্ষণ করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানবসৃষ্ট দুর্যোগসহ সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবে মিল্লাতসহ জেলার নেতারা। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]