অযোধ্যায় মন্দির তৈরি হতে অন্তত ৫ বছর লাগবে

আমাদের নতুন সময় : 12/11/2019

 

রাশিদ রিয়াজ : গত নব্বই দশকে বিশ^ হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ওয়ার্কশপ তৈরি করেছে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা সেখানে পাথর ও মার্বেল খোদাইয়ের কাজ চলে। তার পরেও গত তিন দশকে মাত্র অর্ধেক কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এর অধিকাংশই আবার গ্রাউন্ড ফ্লোরের। যার অর্থ অযোধ্যার মন্দির ওয়ার্কশপে এখনও পর্যন্ত ২১২টি স্তম্ভের মধ্যে মাত্র ১০৬টি কাজ শেষ হয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তৈরি নকশা অনুসারে কাজ চললে মন্দির নির্মাণে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে মন্দির ওয়ার্কশপের প্রধান জানিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রস্তাবিত মন্দিরটি ১২৮ ফুট উঁচু হবে। সেইসঙ্গে এর প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য হবে যথাক্রমে ১৪০ ফুট এবং ২৭০ ফুট। এমন সুবৃহৎ একটি কাঠামোতে সাপোর্ট বেস হিসেবে কোনও ইস্পাত ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ মন্দিরটি নির্মাণে কমপক্ষে ১.৭৫ লাখ ঘন ফুট পাথরের প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। প্রত্যেক স্তম্ভে থাকবে ১৬টি করে মূর্তি। প্রথম তলের উচ্চতা হবে সাড়ে ১৬ ফুট, দ্বিতীয় তল সাড়ে ১৪ ফুটের। বাকি ১১০ ফুট সিঁগি ও গম্বুজ। গম্বুজের উচ্চতা সওয়া ৬৫ ফুট। বাকি উচ্চতায় সিঁড়ি।
মন্দিরে থাকবে পাঁচটি দ্বার। সিংহদ্বার হবে পূর্বদিকে। বাকি চারটি হল, অগ্রভাগ, নৃত্যম-প, রুপম-পও গর্ভগৃহ। মূল মন্দিরের চারদিকে থাকবে লক্ষণ, সীতা, হনুমান ও গণেশ মন্দির। এছাড়া বিজয়স্তম্ভ¢, লাইব্রেরি, অতিথিশালা-সহ থাকবে বিভিন্ন ভাগ। মূল মন্দিরের প্রথম তলে থাকবে ছ’ফুটের রামলালা (শিশু রাম)-এর মূর্তি। শিশু রামের যে মন্দির এখন রয়েছে রাম জন্মভূমিতে, সেই আদলেই তৈরি হবে বিগ্রহ। দ্বিতীয় তলে থাকবে সীতা, বাকি তিন ভাইয়ের সঙ্গে রামের মূর্তি, শ্রীরামের রাজদরবার ইত্যাদি। দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা রেখে গিয়েছেন ‘শ্রীরাম’ লেখা ইট। তার সবক’টিই ব্যবহার হবে মন্দির নির্মাণে। আগে থেকে ঠিক করে রাখা নকশার সঙ্গে আরও একটি বিষয় ঘুরছে ন্যাসে। অনেকেই চাইছেন এতদিন ধরে চলা বিতর্কের পর যখন মন্দির নির্মাণের অনুমতি এসেছে, তখন শ্রীরামের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরি হোক।
এদিকে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দোসরা এপ্রিল রামনবমীর দিন শুরু হতে পারে মন্দির নির্মাণের কাজ। গত তিন বছর ধরে সেখানে চলছে রাম মন্দির নির্মাণের ব্লু- প্রিন্ট। গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের নকশা বানিয়েছিলেন প্রভাশঙ্কর সোমপুরা। তার পুত্র চন্দ্রকান্তকে ১৯৯০ সালে রাম মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব দেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তৎকালীন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বংশানুক্রমিকভাবে মন্দির গড়ে তোলে সোমপুরা পরিবার। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]