বুলবুলের তা-বে ১৫ জনের মৃত্যু ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা এখনও কাটেনি

আমাদের নতুন সময় : 12/11/2019

সমীরণ রায় ও লাইজুল ইসলাম : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলকে ল-ভ- করে দেয়ার সতর্কবার্তা নিয়েই ধেয়ে আসে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তবে পূর্বাভাসে যতোটা গর্জন ছিলো, বাস্তবে ততোটা হয়নি। অথচ গত শনিবার রাত ৮টা পর্যন্তও এটি ছিলো অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। উপকূলের ২০০ কিলোমিটারে প্রবেশের পথে শক্তি কমতে থাকে বুলবুলের। স্থলভাগে ছোবল মারার সময় ঘূর্ণিঝড়টির গতি আরও কমে যায়। দেশি-বিদেশি আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ও নানা হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণ করে বুলবুল বাংলাদেশের উপকূলে প্রবেশ করে সাধারণ ঘূর্ণিঝড় রূপে। তবুও উপকূলীয় এলাকায় বুলবুলের তা-বে ১৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০জনেরও বেশি। এছাড়া উপড়ে গেছে বহু গাছ, বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত অর্ধলক্ষাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। একই সঙ্গে ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলের ক্ষেত ও চিংড়ির ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও। বিঘিœত হয় সড়ক যোগাযোগ।

এদিকে, বুলবুলের যে তা-বলীলার শঙ্কা ছিলো, সেরকম আঘাত না হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কারণ দেশের অন্যতম সম্পদ সুন্দরবন বুক পেতে দেয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। যদিও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকারের নানা প্রস্তুতি ছিলো। নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো ২১ লাখেরও বেশি মানুষ। উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়।
এদিকে, তান্ডব চালিয়ে বিদায় নিয়েছে মহাপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তবে বুলবুল দুর্বল হলেও সাগর এখনো শান্ত হয়নি। এখন পর্যবেক্ষণ করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বঙ্গোপসাগর বা তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগর থেকে সাধারণত নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে আঘাত হানে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এসব সাগর থেকে নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাই বুলবুল বিদায় নিলেও আরও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে যে আঘাত হানবে না, সে শঙ্কা মোটেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। আর এই শঙ্কা না কাটা পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতও জেঁকে বসতে পারবে না বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আসার সপ্তাহখানেক আগে একটা শীত শীত ভাব সারা দেশেই অনুভূত হচ্ছিলো। কিন্তু বুলবুলের কারণে তাপমাত্রা আবার খানিকটা বেড়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে বিদায় নিয়েছে। এখন সাগর কিছুটা শান্ত হয়েছে। সূর্য এখনো খাঁড়াভাবে বঙ্গোপসাগরে কিরণ দিচ্ছে। এই কিরণ থেকে সৃষ্টি হয় লঘুচাপ, তারপর নিম্নচাপ এবং অবশেষে ঘূর্ণিঝড়। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশ থেকে নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রবণতা থেকে যায়।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে বছরের নভেম্বর মাসে যদি ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে এর থেকে বাতাস বা জলীয় বাষ্প উপকূলের দিকে এসে থাকে। এ বাতাসের কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে হিমেল বাতাস আসতে পারে না। এমন পরিস্থিতি হলে শীতও অনুভূত হয় না। তাই শীতের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু, খালিদ আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]