রাঙ্গার বিচার দাবিতে শহীদ নূর হোসেনের মায়ের অবস্থান

আমাদের নতুন সময় : 12/11/2019

ইউসুফ বাচ্চু : ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে কটাক্ষ্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা। তিনি নূর হোসেনকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সেবনকারি বলেছেন। এতে করে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতি অঙ্গণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইতোমধ্যে শহীদ নূর হোসেনের মা মরিয়ম বেগমও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মশিউর রহমান রাঙার কঠোর বিচার চেয়ে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি মশিউর রহমান রাঙাকে নূর হোসেনকে নিয়ে যে কটাক্ষ্য করেছেন, তার জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন মরিয়ম বেগম।
সংসদে যাতে রাঙাকে ঢুকতে না দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এমন অনুরোধ জানিয়ে মরিয়ম বেগম বলেন, দেশে গণতন্ত্রের জন্য নূর হোসেন জীবন দিয়েছে। তাকে ইয়াবা সেবনকারী বলা মশিউর রহমান রাঙাকে সামজিকভাবে বয়কট করুন। কারণ নূর হোসেন যদি নেশাখোর হতো, তাহলে দেশের জন্য জীবন দিতো না। কারণ কোনো নেশাখোর দেশের জন্য জীবন দেয় না। তাই রাঙাকে অবশ্যই জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। এসময় নূর হোসেনের মা মরিয়ম বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তখন সেখানকার পরিবেশ অনেকটাই ভারী হয়ে ওঠে।
মরিয়ম বেগম বলেন, আমার পরিবারের কোনো সদস্য সিগারেট পর্যন্ত পান করে না। অথচ মশিউর রহমান রাঙা কিভাবে আমার ছেলেকে নেশাখোর বললেন। আমি দেশবাশীর কাছে তার বিচার দাবি করছি।
নিহত নূর হোসেনের বড় ভাই আলী হোসেন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আমার বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সংসদে ক্ষমা চেয়েছেন। বাসায় এসে ভুল স্বীকার করেছেন। কিন্তু তার দলের মহাসচিবের এমন বক্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তার বিচারে ভার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশবাসীর কাছে রাখলাম।
আইনের আশ্রয় নিবেন কিনা জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তার এমন বক্তব্যের বিচার চাই। একই সঙ্গে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে এই বক্তব্যের প্রত্যারও চাই।
তিনি আরও বলেন, ৩৩ বছর পর আবার পুরানো ক্ষতকে সামনে নিয়ে আসছেন মশিউর রহমান রাঙা। আমরা এই শোককে ভুলে গিয়েছিলাম। মা সারা রাত কেঁদেছেন। আমরা কেন রাস্তায় নামবো প্রতিবাদ করতে ? জানি দেশের মানুষ আমাদের ভালোবাসেন। দেশের জন্য ভালোবেসে জীবন দেয়ায় তাকে যদি গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সেবনকারি বলা হয়, তাহলে দেশের মানুষ কীভাবে প্রতিবাদ করবে? এ ধরনের কথা বললে তো কখনও ভালো মানুষ দেশের জন্য প্রতিবাদ করতে আসবেন না। ৮৭ সালে দেশে স্বৈরাচার ভর করেছিলো। ওই সময় আন্দোলন করে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানো হয়েছিলো। ওই সময় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরকে অপমান করা হলো। গণতন্ত্রের জন্য যারা শহীদ হলেন, তাদের এতো ছোট করছেন কেন? তাই রাঙাকে বয়কট করা হোক। তার এমপি পদটিও কেড়ে নেয়া হোক।
তিনি বলেন, নূর হোসেন যখন শহীদ হলো, তখন কি কোনো ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ছিলো। আমরা গরীব বলে কি এই কথা বলা হলো ? যে ছেলেটি দেশের জন্য আত্মহুতি দিলো, তাকে কি এভাবে ছোট করা ঠিক হলো ? আমরা তো দেশের কাছে বাড়ি-গাড়ি চাইনি। না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে হাত পাতিনি। বদনামটা দেন কেন? আমরা শ্রমিক মানুষ, কাজ করে খাই। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]