• প্রচ্ছদ » সাবলিড » রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালানোয় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে মামলা দায়ের করলো গাম্বিয়া


রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালানোয় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে মামলা দায়ের করলো গাম্বিয়া

আমাদের নতুন সময় : 12/11/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপর গণহত্যা ইস্যুতে এটিই প্রথম মামলা। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ৪৬ পৃষ্ঠার মামলা আবেদনপত্র জমা দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। তাদের অভিযোগ, মিয়ানমার গণ হত্যা চালিয়ে একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছিলো। এছাড়াও গণ ধর্ষণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে এই আবেদনপত্রে। দ্য গার্ডিয়ান
যদি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এই আবেদন গ্রহণ করে তবে হেগে অবস্থিত আদালতটি প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের উপর সংগঠিত অপরাধের তদন্ত করবে। ফলে অন্য ট্রাইব্যুনালগুলোর উপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। এর আগে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল গঠন করেছিলো আদালতটি। তারা সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিচার করে। আদালতের আইনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্র আরেক সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ আনার অধিকার রাখে। এই আবেদনে ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশন ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওআইসির সদ্য রাষ্ট্র গাম্বিয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। ডিসেম্বরে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক শুনানি করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। ২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই গণহত্যা সংক্রান্ত কার্যক্রম চালানো হয়েছিলো একটি গ্রুপ হিসেবে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য। এই নিধনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতা।। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ করে গৃহহারা করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের। জ¦ালিয়ে দেয়া হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।’
এই আবেদনে গাম্বিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাতুউ তোউরাই নিজের দেশকে ছোট দেশ হলেও মানবাধিকারের বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের উপরে নীপিড়নের বিষয়ে তার দেশ কখনই নিরব থাকবে না। ফেসবুকে চালানো একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রচারণার উপর নির্ভর করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছিলো বলে এই আবেদনে জানানো হয়েছে। শুরু থেকেই এই প্রচারণার লক্ষ্যবস্তু ছিলো রোহিঙ্গারা। গাম্বিয়া বলেছে, ‘ফেসবুকের সাইবার নিরাপত্তা প্রধান জানিয়েছেন, কোম্পানিটি জেনেছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত ছিলো মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর একটি ছোট রোহিঙ্গা গ্রুপ, যারা ছিলো কৃষক আর অস্ত্র হিসেবে ছিলো লাঠি, ছুড়ি আর সামান্য আগ্নেয়াত্র, সংঘবদ্ধ হয়ে কিছু সেনাচৌকিতে হামলা চালায়। এরপরেই মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালায় রোহিঙ্গাদের উপর। তারা অন্ধের মতো রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়েছে। নারীদের উপর যেভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিলো, তা ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত। তাদের লক্ষ্য ছিলো সম্পূর্ণ জাতিগোষ্ঠীটিকেই ধ্বংস করে দেয়া।। তারা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা আর কোরআনের দোকান।’
২০১৬ সালের এই হামলা ছিলো তুলনামূলক ছোট। ২০১৭ সালে কিছু সেনাঘাঁটিতে হামলার অভিযোগে ২৫ আগস্ট বড় ধরণের অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। যে ঘটনাকে জাতিসংঘ শুরুতে জাতিগত নিধন বললেও পরে গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়। এই ঘটনার পর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]