• প্রচ্ছদ » লিড ১ » রোহিঙ্গা সমস্যা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি


রোহিঙ্গা সমস্যা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি

আমাদের নতুন সময় : 12/11/2019

তরিকুল ইসলাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে আমি বলতে চাই, দমন-পীড়নের মুখে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এই রোহিঙ্গারা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। সেজন্য আমি এই হুমকির তাৎপর্য অনুধাবনের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।
গতকাল সোমবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিনদিন ব্যাপী শুরু হওয়া ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়লগ-১৯’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এ ডায়ালগের যৌথ আয়োজন করছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এবং ভারতের অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)। এতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের ৪৫টি দেশ থেকে প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি ও সব মিলিয়ে ৭০০ অতিথি ডায়লগে অংশ নিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা আসার পরও তাদের সঙ্গে আমরা ঝগড়ায় লিপ্ত হইনি। সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছি। জাতির পিতার প্রদর্শিত পথে আমরা আন্তর্জাতিক ও আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী এবং আমরা এটাই মেনে চলি। এ কারণে পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী থাকলে সমস্যা থাকবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমরা ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় করেছি। এটা বিশ্বের একটি উদাহরণ। শান্তি ও নিরাপত্তা ছাড়া কোনো দেশেরই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সেতু হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ
এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর তথা ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী দেশ। নানা কারণে এই মহাসাগর অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাবিশ্বের ২৮ শতাংশ মৎস্য আহরিত হয় এই অঞ্চলে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিবেচনায় বর্তমান শতক ‘এশিয়ার শতক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ ও দূষণ এই এলাকার সামুদ্রিক পরিবেশকে বিপণœ করে তুলেছে। প্রতিবছর বিশ্বের সাগর-মহাসাগরগুলোতে যোগ হচ্ছে ৮ মিলিয়ন টন প্ল­াস্টিক বর্জ্য। দূষণ ও সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে বিনষ্ট করছে। হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা। কোনো একক দেশের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদার করতে সব রাষ্ট্রের এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]