• প্রচ্ছদ » » স্বৈরশাসকের চাকর গলা বাড়িয়েছে বিশিষ্টজনের কঠোর প্রতিবাদ


স্বৈরশাসকের চাকর গলা বাড়িয়েছে বিশিষ্টজনের কঠোর প্রতিবাদ

আমাদের নতুন সময় : 12/11/2019

আমিরুল ইসলাম : জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা গত রোববার বলেছেন, নূর হোসেন ছিলেন ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিল খোর। তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। তাদের কাছে ইয়াবা-ফেন্সিডিলখোর ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বেশি। তার বক্তব্যে ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। বিশিষ্টজনরা তাদের লেখালেখির মাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন।
জিটিভি ও সারা বাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা দলগুলো যখন নূর হোসেনকে ভুলেছে তখন স্বৈরশাসকের চাকর গলা বাড়িয়েছে। এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন বলেছেন, রাঙা নিছক একজন পরিবহন চাঁদাবাজ। দলটা জাতীয় পার্টি বলেই আজ সে মহাসচিব। তার মুখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শ্রেষ্ঠ শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে কোনো মূল্যায়ন শুনতে চাই না। তার বক্তব্যের শুধু নিন্দা বা প্রতিবাদ নয়, তার বিচার চাই, রুচিহীন বক্তব্যের জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেছেন, ১০ নভেম্বর ১৯৮৭ সালের পর নূর হোসেনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আর্থিকভাব সাহায্য করেন। ড্রাইভার হিসাবে নিয়োগ দেন নূর হোসেনের ভাই আলী হোসেনকে। এই আলী হোসেন আওয়ামী সভানেত্রীর গাড়ি বহরে সাংবাদিকদের গাড়ি চালাতেন মাঝে মাঝে। রাঙা হয়তো জানেন না, ১৯৮৭ সালে ঢাকা শহরে ইয়াবা পাওয়া যেতো না। সেই সময় মসিউর রহমান রাঙা থাকতেন রংপুর। সেই দিন আওয়ামী যুবলীগ কর্মী নূর হোসেনকে রাজপথে দেখেছিলাম। তার চোখে মুখে ছিল আগুনের শিখা। বুকে পিঠে ‘স্বেরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। শেখ হাসিনা রাজপথে নূর হোসেনকে এভাবে দেখে বললেন, তুমি জামাটা পরে নাও। নূর হোসেন জবাবে বলেন, আপনি দোয়া করবেন।
সাংবাদিক অঞ্জন রায় বলেছেন, মশিউর রহমান রাঙা আপনার আলোচিত ভিডিওটি দেখলাম। আপনার বক্তব্য ‘নূর হোসেন কে? একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর।’ এই বক্তব্যের জন্য আপনাকে জিরো পয়েন্টে, যেখানে আপনার নেতা এরশাদের নির্দেশে নূর হোসেনকে হত্যা করা হয়েছিলো, সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের একজন মাঠের কর্মী ছিলাম এই আমি। সেই কমিটমেন্ট থেকেই আগামী কয়েকটা দিন সাংবাদিক হিসেবে আপনার কাজকর্ম, আপনার আতœীয় স্বজনদের কাজকর্ম সবকিছুতেই নজর দেবো। জানাবো এই সোশ্যাল মিডিয়াতেই। আপনার তো অনেক ক্ষমতা, পারলে এই পোস্টকে হুমকি বলেপ আইসিটি আইনে মামলা করে আমাকে গ্রেফতার করান। না হলে ক্ষমা চান, অথবা রেডি হন গল্পগুলোর জন্য।
আরিফ জেবতিক বলেছেন, পাবলিক ইমোশন বড় খতরনাক জিনিস। রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেখেও বড় বিক্ষোভ হয়নি, কিন্তু কাদের মোল্লার আঙ্গুল তুলে ভি চিহ্ন দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে সারা বাংলাদেশ শাহবাগ হয়ে গেলো। কাদেরের আঙুল তার পেছন দিকে ভরে দেয়া হলো। নূর হোসেন আমাদের এক বীর যোদ্ধা, আমাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের মূর্ত প্রতীক। আজ আমাদের উচিত ছিলো ইয়াবার ট্রাক রাঙার পেছন দিয়ে ভরে দেয়া। এই দেশ কাপুরুষ হয়ে গেছে। আমরা নূর হোসেনের মতো বীর ডিজার্ভ করিনা। আমরা রাঙার মতো নেতাই ডিজার্ভ করি। আমাদের এই সম্মিলিত কাপুরুষতার মুখে একদলা থুথু। নূর হোসেনের রক্তে গড়া আওয়ামী লীগ সরকারের এই প্রতিক্রিয়াহীনতা আর রাঙাদের মতো কুত্তা পোষার স্ট্রাটেজিকে সীমাহীন ধিক্কার।
কানাডা থেকে লুৎফর রহমান রিটন রাঙার বক্তব্যে প্রতিবাদে ‘বাবায় ছিলো ভায়াগ্রাখোর, রে এরশাদের পা-চাটা’ নামে একটি কবিতা লেখেছেন। কবিতাটি হলো- তুই, জন্মসূত্রে কী পেয়েছিস? লাত্থিগুঁতো। তুচ্ছ্বতা।/বুঝবি না তুই ইতিহাসে নূর হোসেনের উচ্চতা।/নূর হোসেনের রক্তে কেনা তোর পলিটিক্স। গদিও।/নূর হোসেনের ইয়ের সমান যোগ্যতা নেই যদিও…/তোর, বাবায় ছিলো ভায়াগ্রাখোর, রে এরশাদের পা-চাটা ইচ্ছে করে লাল করে দেই বেত মেরে তোর পাছাটা! সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]