• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশের নারীরা গবেষক হিসেবে কেমন?


বাংলাদেশের নারীরা গবেষক হিসেবে কেমন?

আমাদের নতুন সময় : 13/11/2019

কামরুল হাসান মামুন : গত কয়েকদিন আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আমার সহকর্মী বন্ধু ও ছোট ভাই তার এক ছাত্রকে পাঠিয়েছে। ছাত্রীর গবেষণার বিষয় হলো শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান ও প্রতিকূলতা। আমিসহ আমার বিভাগের কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিলো বিজ্ঞান গবেষণায় নারীর অবস্থান পরিমাপ করতে ও বিশদভাবে জানতে। যা হোক ছাত্রীটি চলে যাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি আমাকে বেশ ভাবায়। আগ্রহী হয়ে জানতে চেষ্টা করি আসলে বাংলাদেশের নারীরা গবেষক হিসেবে কেমন? একটু গুগল করতে ‘ভধসড়ঁং ইধহমষধফবংযর ভবসধষব ংপরবহঃরংঃং’ লিখে সার্চ করলাম দুজনের নাম এলো। তাদের একজন হলেন ফিরদৌসী কাদরী যিনি সত্যি সত্যি বিখ্যাত এবং সত্যিই ওয়ার্ল্ড ক্লাস বিজ্ঞানী যার নেচারসহ পৃথিবীসেরা জার্নালে প্রকাশনা আছে। তার সাইটেশন সংখ্যাও ঈর্ষণীয়। পুরুষ নারী মিলিয়েও গুণেমানে তার সমকক্ষ আর কেউ নেই বলেই মনে হয়। তিনি বাংলাদেশের সেরা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওঈউউজই-র একজন গবেষক এবং তার গবেষণার বিষয় প্রাণরসায়ন। অন্যজনের নাম দেখে তো থ। দ্বিতীয়জনের নাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি ফারজানা ইসলাম। আরেকটু গুগল করে তার গবেষণা বা সাইটেশন কিছুই পেলাম না। তার নাম এসেছে কারণ তার নাম উইকিপিডিয়াতে আছে। তার নাম উইকিপিডিয়াতে আছে তার মূল কারণ সম্ভবত প্রথম নারী উপাচার্য হওয়ার জন্য। বিখ্যাত নারী বিজ্ঞানী বলতে যা বোঝায় তার গবেষণা প্রোফাইল বলতে কিছুই নেই। দুঃখের বিষয় হলো ‘ভধসড়ঁং ইধহমষধফবংযর ভবসধষব ঢ়যুংরপরংঃং’ লিখে কারও নাম পেলাম না।
তারপর ইচ্ছে হলো একই সার্চ ভারতের ক্ষেত্রে করতে। প্রথমেই ‘ভধসড়ঁং ওহফরধহ ভবসধষব ংপরবহঃরংঃং’ লিখে সার্চ করতেই অনেক বিখ্যাত নারীর নাম চলে এলো। সেখানে আমি সরাসরি চিনি এ রকম কয়েকজনের নামও দেখলাম। তারপর ‘ভধসড়ঁং ওহফরধহ ভবসধষব ঢ়যুংরপরংঃং’ লিখে সার্চ করতেই আবারও অনেক নাম আসলো যাদের অন্তত দুজনকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি। এদের একজন তো আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডও বটে। তিনি হলেন সুদেষ্ণা সিনহা। সবচেয়ে বড় কথা হলো তিনি কলকাতার বাঙালি। তিনি ঁহফবৎমৎধফ করেছেন ওওঞ কানপুর এবং সহপাঠীদের একজন হলেন বর্তমান ওঈঞচ-র ডিরেক্টর অতীশ দাভলকার। দুদিন আগেই অধ্যাপক অতীশ দাভলকারকে নিয়ে লিখেছিলাম। অধ্যাপক সুদেষ্ণা সিনহা ঞধঃধ ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঋঁহফধসবহঃধষ জবংবধৎপয (ঞ.ও.ঋ.জ.), ইড়সনধু, ওহফরধ থেকে পিএইচডি করেন। বর্তমানে ওহফরধহ ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঝপরবহপব ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ জবংবধৎপয (ওওঝঊজ) গড়যধষরতে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। কিছুদিন আগে হিন্দুস্থানটাইমসে ‘ঝঁফবংযহধ ঝরহযধ রং ঃযব ড়িসধহ যিড় নৎড়ঁমযঃ ড়ৎফবৎ রহ পড়সঢ়ঁঃরহম ভৎড়স পযধড়ং’ এই শিরোনামে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপায় (কমেন্ট থ্রেডে প্রতিবেদনটির লিংক দেয়া হলো এবং পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো)। তিনি একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান বিজ্ঞানী। আরও যাদের আমি চিনি তারা হলেন অমিতা মেহতা, নীলিমা গুপ্ত প্রমুখ। এছাড়া আরও একজনকে আমি চিনি যার নাম থাকতে পারতো তিনি হলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারঙ্গমা সেন। এ রকম ভারতে আরও অনেক ভালো ভালো নারী গবেষক পাওয়া যাবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই গুগল লিস্টে একজন ভারতীয় মুসলমান নারীর নাম দেখলাম না।
তারপর জানতে ইচ্ছে হলো পাকিস্তানে কি অবস্থা? তাই এবার গুগল সার্চ করলাম ‘ভধসড়ঁং চধশরংঃধহর ড়িসবহ ংপরবহঃরংঃং’ লিখে। এবার ৬ জনের নাম পেলাম। অথচ পাকিস্তানির জায়গায় ইন্ডিয়ান লিখে সার্চ দিলে প্রায় পঞ্চাশজনের নাম আসে। আর আমাদের আসে দুজনের নাম। এই পরিসংখ্যানও অনেক কিছুই ৎবাবধষ করে। এই দক্ষিণ এশিয়াতে কোন দেশ শিক্ষাদীক্ষায় কতো এগিয়ে। আমাদের বাংলাদেশ নারী ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়েছে বটে, কিন্তু সেটা কেবল প্রান্তিক লেবেলে। সত্যিকারের শিক্ষায় বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষায় আমাদের নারীরা সত্যিই অনেক পিছিয়ে। পাকিস্তানের যে ছয়জনের নাম পেলাম তাদের মধ্যে অনেকজনই গবেষণায় অনেক উচ্চমানের।
এসব কিছু বিবেচনায় নিলে আমার মনে হয় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এই জায়গাটাতে আমাদের অনেক উন্নতির প্রয়োজন। এর সঙ্গে একটি সমাজের পুরুষের মনোভাবের ব্যাপারও জড়িত। আমার ধারণা, আমাদের ছাত্রীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে উঠে তখন থেকেই বিয়ের জন্য পরিবার থেকে চাপ আসতে শুরু করে। এর আগে পর্যন্ত আমাদের মেয়েরা কিন্তু ছেলেদের চেয়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের পরিসংখ্যান দেখলেই তা স্পষ্ট হয়। মাস্টার্সের ফলাফল দিয়ে শিক্ষক হওয়ার মধ্যে তাদের একটা বিরাট পরিবর্তন ঘটে। এদের বিয়ে হয়। এই বিবাহ নামক বিষয়টিই নারীদের ক্যারিয়ারকে ডুম করে দেয়। বিয়ের পর নিজের বাবা-মাকে ছেড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে গিয়ে আরেকটি পরিবারকে আপন করে নেয়ার দায়িত্ব পড়ে। তার উপর স্বামীর দেখভাল করা। একবার একটি সন্তান হলে গবেষণা থেকে অন্তত তিন-চার বছরের জন্য ছিটকে পড়া। এরপর যদি আরও একটি সন্তান হয় তখন আরও দুই-তিন বছর যোগ হয়। এভাবে একবার ছিটকে পড়লে আবার গবেষণায় ফিরে আসা কঠিন। তাই ভালো তারাই করতে পারে যাদের স্বামীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমরা পুরুষরা এমন এক পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে একটি ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া হয় নারীরা ঘরে থাকবে, সন্তান পালন করবে, স্বামীর দেখভাল করবে। আমাদের সমাজে যদিও গত ত্রিশ বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু এনাফ নয়। আরও হওয়া উচিত। সেটা যে এনাফ নয় তার প্রমাণ তো নারী বড় বিজ্ঞানীর লিস্টের দিকে নজর দিলেই টের পাওয়া যায়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]