ভারতের প্রধান বিচারপতির অফিসও তথ্য অধিকার আইনের আওতায়

আমাদের নতুন সময় : 13/11/2019


দেবদুলাল মুন্না : ভারতের প্রধান বিচারপতির অফিসও এলো তথ্যের অধিকার আইনের আওতায়। গতকাল বুধবার এই মামলার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কে জি বালকৃষ্ণণ অবশ্য আগে চাননি তাঁর অফিসও তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আসুক। সে নিয়ে তিনি অতীতে সোচ্চারও ছিলেন। কিন্তু বুধবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, প্রধান বিচারপতির অফিসও আসবে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায়। পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল দুপুরে এই রায় দিয়েছে। বেঞ্চের শীর্ষে ছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।
২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট রায় দেয়, প্রধান বিচারপতির অফিসও তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আসা উচিত। বিচারপতি মন্তব্য করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মানে কোনও বিচারককে বিশেষ সুবিধা দেয়া নয়। সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বিচারককে দায়িত্বশীল হতে হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সেন্ট্রাল পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার। আবেদনের ওপর শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, কেউই অস্বচ্ছতা চায় না। কিন্তু স্বচ্ছতার নামে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা উচিত নয়।
এদিকে আগামী ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অবসর নেবেন বিচারপতি গগৈ। তার জায়গায় প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন বিচারপতি এসএস বোবদে। ১৭ তারিখের আগেই গুরুত্বপূর্র্ণ ছয়টি মামলার রায় শোনানোর কথা। ইতোমধ্যেই গত ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দেওয়া হয়ে গিয়েছে। গতকাল রায় দেওয়া হলো প্রধান বিচারপতির অফিস তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় যাওয়ার। এরপর রয়েছে কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদ্দের প্রবেশ সংক্রান্ত রিভিউ মামলার রায় ঘোষণা।
গতকাল মামলার রায় দেওয়ার সাংবিধানিক বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়াও ছিলেন বিচারপতি এনভি রামানা, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচুড়, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং সঞ্জীব খান্না। ২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল। গত ৪ এপ্রিল এই মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় দান স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। চন্দ্র আগরওয়াল নামের এক ব্যক্তি দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন প্রায় এক দশক আগে। তিনি প্রথম দাবি করেছিলেন প্রধান বিচারপতির কার্যালয়কেও তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় আনা হোক। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]