হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে ‘দখিনা হাওয়া’য় শূণ্যতা

আমাদের নতুন সময় : 13/11/2019

দেবদুলাল মুন্না: আজ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। তিনি জন্মদিন পালনের বিষয়ে কখনও আগ্রহবোধ করতেন না। তবু সন্তান,ভক্ত ও বন্ধুবান্ধবদের তাগিদে জন্মদিন পালন করা হতো ঘরোয়াভাবে। তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন গতকাল জানালেন এসব কথা। তিনি বলেন, ‘তার (হুমায়ূন) কাছে জন্মদিন বা মৃত্যুদিন এগুলো শুধু হিসাবের দিন। তাই জন্মদিনে কিছুই করতেন না। যা করার তাঁর ভক্তরাই করত। ১২টা ১ মিনিটেই সবাই আসত। প্রথমত কাছের মানুষ যাঁরা, তাঁরা তো আসতেনই, অতিথিরা ফুল-কেক-ছোটখাটো গিফট নিয়ে আসতেন। হুমায়ূন আহমেদ ম্যাটেরিয়াল জিনিস খুব একটা পছন্দ করতেন না। কেউ পাঞ্জাবি নিয়ে এলে তাঁকে খুশি করার জন্য তাঁর সামনেই পরতেন। পরে ‘এটা আমাকে অমুক দিয়েছে, ওটা তমুক দিয়েছে’, সে ব্যাপারটা তাঁর মধ্যে ছিল না। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে গিফট পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেন। অন্য সব দিন ‘দখিন হাওয়া’য় অপরিচিত মানুষ ঢোকার অনুমতি ছিল না, কিন্তু জন্মদিনে ভক্ত-অনুরাগী কেউ দেখা করতে এলে তাদের জন্য দরজা খোলা থাকত। একবার আমি তাঁর জন্মদিনে তাঁর সৃষ্ট বিভিন্ন চরিত্রের সাজে নিষাদের ছবি তুলে একটা ক্যালেন্ডার বানিয়ে দিলাম আর ওটার নাম দিলাম হুমায়ূন ক্যালেন্ডার। সাধারণত একটা ক্যালেন্ডার শুরু হয় বছরের প্রথম দিন থেকে, কিন্তু ওই ক্যালেন্ডারটা শুরু হয়েছে ১৩ নভেম্বর থেকে আর শেষ হয়েছে পরের বছর ১২ নভেম্বর। সেখানে হুমায়ূন আহমেদের বিশেষ দিনগুলো মার্ক করা। এটা দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্যালেন্ডারের একটা কপি এখনো যতœ করে রেখেছি। আরেকবার পাক্ষিক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদের একটি আবক্ষ মূর্তি বানিয়ে নিয়ে এলো। সেটার একটা চশমাও আছে, টিন বা কাঠ দিয়ে বানানো চশমা। হুমায়ূন আহমেদ সেটা দেখে বললেন দেখো দেখো, এটার নাম আমি দিলাম ছোটদের হুমায়ূন আহমেদ। মূর্তিটা এখনো নুহাশপল্লীতে আছে। একবার জন্মদিনে কোলকাতা থেকে লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এসেছিলেন। সেবার দুজনের অনেক আনন্দ করেছিলেন।’
হুমায়ুন আহমেদের শেষ জন্মদিনের স্মৃতি প্রসঙ্গে শাওন বলেন, ‘ তার শেষ জন্মদিনে আমরা নিউ ইয়র্কে কেক কেটেছি ১২টা ১ মিনিটে। তেমন আয়োজন ছিল না, শুধু ছোট একটা কেক কেটেছি। বাংলাদেশে প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম আর তাঁর স্ত্রী স্বর্ণা মাজহার তাঁদের বাসায় একটা কেক কাটলেন। তাঁরা ১২টা ১ মিনিটে যখন কেক কাটেন তখন নিউ ইয়র্কে আগের দিন। নিউ ইয়র্ক তো পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের চেয়ে। তখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা হয় বাংলাদেশের সবার সঙ্গে। নুহাশ ছিল, হুমায়ূন আহমেদের ভাই-বোনরা ছিলেন, মা ছিলেন। সবাই মিলে বাংলাদেশে এখানে কেক কাটছেন আর ওখানে হুমায়ূন আহমেদের তখন কেমো চলছিল। তাঁর মাথার সব চুল পড়ে গিয়েছিল। আমার একটা ঘটনা মনে আছে, নুহাশকে দেখে বললেন ,বাবা, আমার চুলের অবস্থা দেখো। তিনি ক্যাপটা খুলে চুল দেখাচ্ছিলেন। তিনি এমনিতে কাউকেই দেখাতে চাইতেন না, এমনকি নিজেও আয়নার সামনে যেতেন না মাথার সব চুল পড়ে যাওয়ার পর। কিন্তু তখন পুরো বিষয়টাকে রসিকতার মতো করে দেখালেন নুহাশকে। সেই জন্মদিনের দিন আমরা সারা দিন ঘুরে বেড়িয়েছিলাম নিউ ইয়র্কে। আজ কিভাবে জন্মদিন পালন করা হবে সে প্রসঙ্গে শাওন জানান, ‘সব বার যা থাকে, এবারও তা-ই থাকবে। পাঁচ বছর ধরে জন্মদিনের আগের দিন ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ পদক দেওয়া হয়। হুমায়ূন আহমেদের নামে সাহিত্য পদক প্রণয়ন হয়েছে, এটা আমার কাছে খুবই গর্বের বিষয়। আমি নিশ্চিত, হুমায়ূনও এ বিষয়টাতে খুব খুশি হয়েছেন। এখানে কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য একজন সিনিয়র ও একজন নবীন পদক পান। পাঁচ লাখ টাকা অর্থমূল্যও দেওয়া হয়। নবীন সাহিত্য শাখায় দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। এবার প্রবীণ শাখায় পেয়েছেন রাবেয়া খাতুন, নবীন শাখায় সাদাত হোসাইন। ১২ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রতিবছর হুমায়ূন আহমেদ যেভাবে কেক কাটতেন, সাত বছর ধরে সেভাবেই আমরা কেক কেটে যাচ্ছি ‘দখিন হাওয়া’য়। কেক কেটে আমরা চলে যাব নুহাশপল্লীতে। রাতটা সেখানে থাকব। সকালে সেখানে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে ফুল দিয়ে ঢাকায় ফিরব। বেশ কিছু অনুষ্ঠান থাকে সেখানে, সেগুলো অ্যাটেন্ড করব। এবার অ্যাডিশনাল একটা কাজ হবে। হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত একটা স্কুল আছে নেত্রকোনায়, নাম, শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। স্কুলটা হুমায়ূন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৯৬ সালে। আর আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান শুরু হয় ২০০৬ সালে। কেন্দুয়া উপজেলায় হুমায়ূন আহমেদের গ্রামের বাড়ি কুতুবপুরের এই স্কুল ১৩ বছর ধরে চলছে। সেখানে হুমায়ূন আহমেদের জন্মোৎসব পালিত হচ্ছে।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]