• প্রচ্ছদ » স্ক্রল » ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল চাবি খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, বললেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল চাবি খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, বললেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

আমাদের নতুন সময় : 14/11/2019

আশিক রহমান : শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, খাদ্যাভাসের পরিবর্তন, ওজন বেড়ে যাওয়া, অলস জীবনযাপন, উদ্বৃত্ত কার্বহাইড্রেড জাতীয় খাদ্য গ্রহণেরর কারণে মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। মুঠোফোন ও কম্পিউটারে অভ্যস্ততার কারণে শিশুদের শারীরিক পরিশ্রমও কমে গেছে। তারাও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেÑএমন মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন,
তিনি বলেন, যখন কারও ডায়াবেটিস হয়, তখন ওই মানুষের শরীরে ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। ফলে দেহের কোষে গ্লুকোজ পৌঁছাতে পারে না। এতে করে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। সাধারণত প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীর ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। যখন প্রস্রাব বেশি হয়, তখন ডায়াবেটিসে ভোগা রোগী তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ায় রোগীর শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ বের হয়ে যায়। এতে করে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে পারে না দেহের কোষগুলো। ফলে রোগী দুর্বলতা অনুভব করেন। রোগী যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে তার রক্তনালি, স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগের সাধারণ কিছু লক্ষণ রয়েছে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস। আর যতো আগে ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যাবে, তখনই নিতে হবে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলো : এক. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, দুই. তেষ্টা পাওয়া, তিন. নিয়মিত খাওয়ার পরও ঘন ঘন খিদে, চার. প্রচ- পরিশ্রান্ত অনুভব করা, পাঁচ. চোখে ঝাপসা দেখা, ছয়. শরীরের বিভিন্ন অংশের কাটাছেঁড়া সহজে সারে না, সাত. খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া ও আট. হাতে-পায়ে ব্যথা বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করতে হলে প্রথমে খাদ্যাভাস সম্পর্কে সচেতন হবে, কতোটুকু খাদ্য নিরাপদ আক্রান্তকে বুঝতে হবে। কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। সাধারণের একটি ধারণা হলো ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি খাওয়া যাবে না। এই ধারণাটি ভুল। তবে অবশ্যই পরিমিত হতে হবে। জীবনাচরণ পরিবর্তন। ওষুধের ব্যবহার উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরও যদি রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের দেয়া এবং তার নির্দেশিত ওষুধ সেবন করতে হবে। ডায়াবেটিস হলে কিডনি রোগ, চোখের রোগ, হার্টের সমস্যা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করলে এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। হৃদযন্ত্রের বড় সমস্যা বা অন্ধত্ব পর্যন্ত গড়াতে পারে।
প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর বিশ^ ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়। মানুষকে সচেতন করে তোলাই এই এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য। প্রতি বছরই একটি প্রতিবেদন থাকে ডায়াবেটিসের উপর। এ বছরও একটি প্রতিপাদ্য রয়েছে, ‘ডায়াবেটিস ও পরিবার’। একটা পরিবারে শুধু নয়, পরিবারের অন্য সবাইকে ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত রাখতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]