প্রেম থেকে পরিণয়ে আফতাব আহমেদ ও গুলতেকিন

আমাদের নতুন সময় : 14/11/2019

আনিস তপন : ছয় বছরের প্রেম থেকে পরিণয়ে আবদ্ধ হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমেদ এবং কবি গুলতেকিন খান। পারিবারিক আয়োজনে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়ের উপস্থিতিতে গত অক্টোবরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। এদিকে, গত বুধবার রাতে আফতাব আহমেদ ও গুলতেকিনের বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তাদের অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান অনেক অনুরাগী-শুভাকাঙ্খীরা। গতকাল বৃহস্পতিবারও ছিল এ বিষয়ে নানা আলোচনা।
জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমেদের একাধিক কবিতা ও গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। আর গুলতেকিন খান গত কয়েক বছর ধরেই কবিতার বই প্রকাশ করে আসছেন। এবছর ‘বালি ঘুড়ি উল্টে পড়ে’ নামে তার একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়।
নব দম্পতির বিষয়ে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কবি আফতাব আহমেদ ও গুলতেকিন খান একই সময়ে ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হন। তবে আফতাব আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার লেখাপড়া নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারলেও নানা কারণে গুলতেকিন খান তার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি।
গতকাল সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে আলাপকালে কবি আফতাব আহমেদ বলেন, গত ২৫ অক্টোবর সন্ধায় ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়ের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা। ব্যাচমেট হলেও সহপাঠী না হওয়ায় আগে গুলতেকিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। তবে লেখালেখির সঙ্গে জড়িত থাকায় ২০১৩ সাল থেকে তাদের মাঝে ব্যক্তিগত যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর তারা দু’জনে ২০১৬ সালে একসঙ্গে নাট্যকাব্য লেখার পরিকল্পনা করেন, যা ২০১৭ সালে ‘মধুরেণ’ নামে প্রকাশিত হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, লেখালেখির কারণে গুলতেকিন আমার সহযাত্রী। আমাদের দু’জনেরই একটা বিষয়ে মিল আছে জানিয়ে সরকারের এই আমলা কবি বলেন, সময় আমাদের একই ধরনের দু:খ, কষ্ট ও বেদনা দিয়েছে। যা আমাদের দু’জনকেই সইতে হয়েছে। এটাই হয়তো আমাদের কাছে এনেছে। এই কষ্ট, এই বেদনার সবটা যে আমরা সৃষ্টি করেছি তা নয়, সামাজিক কারণেই আমাদের এই দু:খ-কষ্ট, বেদনা সহ্য করতে হয়েছে। এভাবে কী যেনো একটা অদৃশ্য কারণে আমাদের দু’জনের একই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে।
কারো বিরুদ্ধেই কোনো অভিযোগ তাদের নেই জানিয়ে আফতাব আহমেদ বলেন, আমরা মনেকরি মানুষ যখন বেদনায় আক্রান্ত হয় তখন তাদের বন্ধনটা অনেক ভালো ও মজবুত হয়। এতেই আমরা বুঝতে পারি কোথায় আমাদের যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। আমাদের এমন মনে হয়েছিল কারণ আমরা একই ধরনের বেদনা সহ্য করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের দু’জনের বেশ কিছু জায়গায় সম্ভাবনা ছিল, যা আমরা বিভিন্ন কারণে মেলে ধরতে পারিনি। এখন সেটাই আমরা করতে চাই ভবিষ্যতে। এর থেকেও বড় কথা আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। আমাদের কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই, সবার প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি কোনো ইতিহাস আমরা বদল করতে চাইছি না বা কখনোই চাইনি, তবে সামান্য ভূগোল হয়তো বদল হতে পারে এবং নতুন ইতিহাস হয়তো তৈরি হবে। আমাদের এই একাত্মতা কোনো ইতিহাস পরিবর্তনের লক্ষ্যে নয়, নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টায় থাকবে। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]