• প্রচ্ছদ » লিড ১ » আবরার হত্যায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে ডিবির চার্জশিট, অবহেলা ছিল বুয়েট প্রশাসনের


আবরার হত্যায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে ডিবির চার্জশিট, অবহেলা ছিল বুয়েট প্রশাসনের

আমাদের নতুন সময় : 14/11/2019

ইসমাঈল ইমু : গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভূক্ত ১৬ জন ও এজাহারের বাইরে ৫ জন রয়েছে। বাকি চারজন পলাতক। এই ৪ জনের মধ্যে তিনজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তারা হলেন- জিসান, তানিন ও মোর্শেদ এবং রাফি এজাহার বহির্ভূত। এ হত্যাকা-ে সরাসরি অংশে নেয় ১১ জন। বাকি ১৪ জন হত্যাকান্ডে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত রয়েছে।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। এই মামলার আলামত হিসেবে আবরার ফাহাদের রক্তমাখা জামাকাপড়, আসামিদের ফেসবুক মেসেঞ্জারের কথোপকথন এবং বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ দেখানো হয়েছে।
হত্যাকা-ের কারণ সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, একক কোনো কারণে আবরার হত্যাকা-টি হয়নি। সে শিবির করে কি-না, হত্যার পেছনে এটি একটি মাত্র কারণ। কিন্তু যারা তাকে হত্যা করেছে তারা এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, কেউ তাদের সঙ্গে দ্বিমত করলে, সালাম না দিলে, তাদের সামনে হেসে দিলে ইত্যাদি কারণে তারা নির্যাতন করতো। অভিযুক্তরা র‌্যাগিংয়ের নামে নতুনদের আতঙ্কিত রাখতে এসব কাজ করতো। এসব বিষয়ে আমরা আগে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে তদন্তে একজন সাক্ষী বলেছে যে, একজনকে সালাম দেয়নি বলে তাকে পেটানো হয়েছে। র‌্যাগিংয়ের নামে উচ্ছৃঙ্খল কর্মকা-ের অভ্যস্ততার অংশ হিসেবেই আবরার হত্যাকা-টি সংগঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকে মনিটরিং করলে এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। এটা তাদেরই দেখার কথা।
তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, রাত ১০টার পর থেকে আবরারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ডাক্তার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। অনেক দীর্ঘ সময়ে তাকে পেটানো হচ্ছিল। তাকে হয়তো একটু আগে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এমন নৃশংস পরিণতি হতো না।
এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা এবং এ এস এম নাজমুস সাদাত। এজাহার বহির্ভূত পাঁচজন হলেন- ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু।
ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিরোধিতা করে গত ৫ অক্টোবর বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে শিবিরকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]