• প্রচ্ছদ » » আবরার ফাহাদ হত্যা এবং ওরা ২৫ জন


আবরার ফাহাদ হত্যা এবং ওরা ২৫ জন

আমাদের নতুন সময় : 15/11/2019

খালেদ মুহিউদ্দিন

আবরার হত্যার দায়ে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। নৃশংসভাবে খুন হওয়া আবরারসহ তারা সবাই বুয়েটের ছাত্র? চার্জশিটভুক্ত সকলে এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলে লেখাপড়ায় সবচেয়ে ভালো ফল করা ছাত্র? সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়তে পড়তে কীসের নেশায় বা কার নির্দেশে এ রকম ভয়ংকর খুনি তারা হয়ে উঠলেন আমাদের সবাইকে তা ভাবতে হবে? আমি কিন্তু এ রকম স্টেরিওটাইপে যেতে চাই না যে, পড়ালেখায় ভালো হলেই কেউ ক্রিমিনাল হতে পারবেন না? বরং আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পড়ালেখার সঙ্গে নৈতিকতার কমই সম্পর্ক রয়েছে? দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, লুটেরা ব্যাংকার বা ঘুষখোর পেশাজীবীদের বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষায় নামজাদা? আজ পর্যন্ত আমি কাউকে বলতে শুনিনি, আমি কী করে ঘুষ খাবো আমি তো অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার মতে, মানুষ প্রাণী হিসেবে অপরাধপ্রবণ হলেও তার মধ্যে ধরা পড়ার ভয়টা খুব কাজ করে? আর পাশাপাশি সে একধরনের শান্তি বা স্থিতাবস্থা চায়? তাই অন্য কিছু করার অপশন থাকলে সে অপরাধ করতে চায় না? তাই আমরা দেখি বঞ্চিত, অবহেলিত এবং ব্যর্থদের মধ্যে অপরাধস্পৃহা বেশি থাকে? বুয়েটের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের অপশনের কোনো কমতি নেই? বলতে গেলে পুরো পৃথিবীটাই তাদের হাতের মুঠোয়? দেশে বিরক্ত লাগলে তারা বিদেশে চলে যেতে পারেন? চাকরি করতে ভালো না লাগলে করতে পারেন ঠিকাদারিসহ অন্য যে কোনো ব্যবসা বাণিজ্য? হতাশা বা বঞ্চনায় নিমজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ আপাতত আমার নজরে আসছে না? তাহলে আরেকটি হতে পারে যে, এই অল্প বয়সী ছেলেগুলো এটা বুঝেছিলো যে, কিছু করলেই তাদের কিছু হবে না? বুয়েটে পড়ছে মানে অঙ্ক, বিজ্ঞান বা স্বাভাবিক যুক্তিবিদ্যায় ভালো ছেলেগুলোর এ রকম কেন মনে হলো যে, তারা যাই করুক পার পেয়ে যেতে পারবে? কে তাদের দিলো এ আশা? কে দিলো ভরসা? কার নির্দেশে মজা করতে করতে বা গল্প করতে করতে অনেকক্ষণ ধরে একজন সতীর্থকে পেটানো যায়? অনেকেই একথা বলতে চাইছেন যে, অভিযুক্তরা বুঝতে পারেননি যে আবরার মরেই যাবেÑ তাই এটিকে দুর্ঘটনা বলাই সঙ্গত? আমারও যেন কিছুটা বিশ্বাস হয় এই যুক্তি? কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কাউকে পেটানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়? এমনকি নয় সর্বশেষও? এর অনেকগুলো খবর হয়েছে, আড়ালে রয়ে গেছে তারও বেশি? একবার ভাবুন আবরার যদি না মারা যেতো তাহলে কী হতো? তাহলেও কী আমাদের টনক নড়তো? আমরা ফেসবুক ফাটিয়ে ফেলতাম? প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিতেন কাউকে না ছাড়ার? এখনো কি যেসব আবরার মার খাচ্ছেন তাদের একটু সাবধানে মারা হচ্ছে না? যাতে তারা একটুখানি অন্তত বেঁচে থাকেন? বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবরারদের যারা দলবদ্ধভাবে মারছেন, তারা নিশ্চয়ই আসি আসি শীতের ফুলকপির বড়া খাচ্ছেন, হাত বাড়িয়ে চায়ে আরেকটু চিনি নিচ্ছেন। আমাদের সবার সাবধান হওয়া উচিত এ কারণে যে, নিজেদের অজান্তেই আমরা কিন্তু ঠাÐা মাথার খুনি তৈরি করছি? আজ তাদের পঁচিশজন আবরারকে মেরেছেন, কাল তারা আপনাকে বা আমাকে মারতে আসবেন? হয়তো একটু খেয়াল রাখবেন আমরা যাতে একেবারে মরে না যাই? স্ট্যানলি কুবরিকের ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের মতো হয়তো আমাদের পিটিয়ে মেরে নির্বিকারভাবে গøাস গøাস পুষ্টিকর দুধও পান করবেন তারা। ডয়চে ভেলে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]