পয়া মাইয়া-অপয়া মাইয়া

আমাদের নতুন সময় : 15/11/2019

কুলদা রায় : টিপি টিপি পায়ে তক্তপোষের কাছে এসে দেখলো বিধুবাবু নেই। তক্তপোষের উপর শুকনো লতাপাতার স্ত‚প জড়ো হয়ে আছে। সেটা সরিয়ে কোনো লাভ নেই। তাই সে মরিয়া হয়ে বিধুবাবুর নাম ধরে কয়েকবার ডাকলো। ডাকতে ডাকতে যখন তার গলা ধরে এলো তখনই একটা কাঠবিড়াল সড় সড় করে গাছ থেকে নেমে এলো। তক্তপোষের শুকনো পাতার স্ত‚পের ভেতরে লেজ তুলে ঢুকে পড়লো। আর মাথার দিকটায় মুখ বের করে তার দিকে পিট পিট করে তাকাতে লাগলো। সেটা দেখে মেয়েটি হুঁশ করে উঠলো কেন জানি। তাতে কাঠবিড়ালটি পাতার স্ত‚প থেকে ঝাঁপ দিয়ে গাছের উপরে উঠে গেলো। আর তক্ষণি দেখা গেলো একটি মুখ। ঠিক মুখ নয়। মুখাকৃতির মতো কিছু। একটু ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো, মুখাকৃতিও নয়। চোখের আকারই হবে। সে চোখ পলকহীন। কাছে যেতেই সেই চোখও হাওয়া হয়ে গেলো। ভয় পেয়ে মেয়েটি অমৃত মুচির কাছে ফিরে এলো। অমৃত মুচি যেন তারই অপেক্ষায় ছিলো। তাকে দেখে বললো, কী হইছে মা জননী? খুঁইজা পাও নাই বিধুবাবুর বাড়ির ভিটা? মুখে কোনো কথা ফুটলো না মেয়েটির। শুধু মাথা নেড়ে বোঝালো, হ্যাঁ, বাড়ির ভিটা পেয়েছে। তাহলে? বিধুবাবুরে পাই নাই। ভালো কইরা খুঁইজা দেখছো? খুঁজছি। কিন্তু তিনি নেই। আর কাউরে পাও নাই? পাইছি। মুখে হলুদ লাগা। আর হাতে মাছ রান্ধনের খুন্তি। ফিরে দেখি তিনিও নাই। বিধুবাবুও নাই। ঘরও নাই। শুনে খুশি হলো অমৃত মুচি। গুনগুন করে গেয়ে উঠলো, খুঁজি তারে আসমান জমিন/আমারে চিনি না আমি/এ বিষম ভ্রমের ভ্রমি/আমি কোন্জন, সে কোন্জনা। গান শেষ করে বললো, এই তো তুমি পয়া মাইয়া। তিনি ও বাড়ির বেটার বউ। সবাই তার দেখা পায় না। তুমি পাইছো। আরেকটু সন্ধান করো। বিধুবাবুরেও পাইবা। বলে অমৃত মুচি হাওয়ার উপরে আঙুল দিয়ে আঁকিবুকি করেন। আর ফুল্লরা মেয়েটি অবাক হয়ে দেখে, শূন্যের উপরে একটি ইটের বাড়ি। লাল লাল ইট। তার দোতলাটিও দেখা যায়। সামনে বড় উঠান। তার সামনে মন্দির। আর বিল্ডিংয়ের পেছনে ছোট উঠান। তার শেষে পাকঘর। ডানদিকে গোয়ালঘর। আর বাঁদিকে কলতলা। কলতলার জল একটা নালার মধ্য দিয়ে পুকুরে নেমে গেছে। পুকুর পাড়ে দুটি হিজল গাছ নত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জলে তাদের ছায়া পড়েছে। মৃদু হাওয়ায় সে ছায়াগুলো ভেঙে গেছে। ফুল্লরা শুধায়, কী আচানক। এইটাই বিধুবাবুর বাড়ি? অমৃত মুচি একটু গম্ভীর হয়। বলে, হইতে পারে। আবার নাও হইতে পারে। মনে করো তোমার মায়ে নাম রাখছে ফুল্লরা। তাই তুমি ফুল্লরা। আর তোমার বাপে রাখছে গোলাপ বালা। তাই তুমি বাপের কাছে গোলাপ বালা। ফুল্লরা নও। একটু দম নিয়ে বলে, সবই বাজিকরের খেলা মা জননী। তুমি যদি বাড়িটিকে হরমুজ মোল্লার মনে করো তবে সেইটা হরমুজ মোল্লার বাড়ি। আর যদি ধইরা নাও, ওটা বিধুবাবুর বাড়ি, তাহলে বিধুবাবুর বাড়িই হবে। তুমি তারে খুঁজলে ঠিকই খুঁইজা পাইবা। বাড়িটি এখন হাওয়ার উপরে ভাসছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]