• প্রচ্ছদ » » হুমায়ূন স্যারের বুকসেলফ এবং বই ডাকাতির কাহিনি


হুমায়ূন স্যারের বুকসেলফ এবং বই ডাকাতির কাহিনি

আমাদের নতুন সময় : 15/11/2019

চঞ্চল চৌধুরী : অনেক বছর আগের কথা। সম্ভবত ২০০৫ সাল হবে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে সেই বছর করা গ্রামীণফোনের ‘মা’ বিজ্ঞাপনটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ওই বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে যাবার জন্য একটা বড় ব্যাগ কিনেছিলাম, কসটিউম বহনের জন্য। ওই বিজ্ঞাপনটা ছিলো আমার মিডিয়া ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। সে কারণে ওই ব্যাগটাকে আমি সৌভাগ্য ব্যাগ মনে করতাম। অনেক বছর আমি খুব যতœ সহকারে ওই ব্যাগটা ব্যবহার করেছিলাম। যা হোক, ঠিক ওই বছরই হুমায়ূন স্যার তার ‘কালা কৈতর’ নাটকে অভিনয়ের জন্য আমাকে ফোন করেন। প্রথম দিন শুটিং করেছিলাম স্যারের ধানমন্ডির বাসায়, তারপর নুহাশ পল্লীতে। তখন থেকেই অভিনেতা চ্যালেঞ্জার ভাইয়ের সঙ্গে আমার খুব আন্তরিক সম্পর্ক। চ্যালেঞ্জার ভাই আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি কি স্যারের লেখার ভক্ত?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ তার লেখা অনেক গল্পের বই, উপন্যাস আমি স্কুলে, কলেজে থাকা অবস্থাতেই পড়ে ফেলেছি।’ তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি লজ্জা না করে স্যারের কাছে তার লেখা বই চাইবে। কেউ বই চাইলে তিনি খুশি হন।’ তার সঙ্গে তার বাসায় প্রথম দিনের পরিচয় আর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা আরেক দিন বলবো। শুধু এটুকু বলি, তার বাসায় বড় বড় বুকসেলফ ভর্তি হাজার হাজার বই। দেখেই আমার চোখ দুটো চিক্ চিক্ করে উঠলো। সুযোগ বুঝে এক ফাঁকে স্যারকে বললাম, ‘স্যার, আমি আপনার লেখার ভক্ত, আমাকে যদি কয়েকটা বই দিতেন।’ স্যার বললেন, ‘কয়েকটা কেন? বুকসেলফ থেকে সব বইয়ের একটা করে কপি নিয়ে যাও’।
ব্যাস, লজ্জা বা দ্বিধায় আমি সেই সুযোগ নষ্ট করিনি। নির্লজ্জের মতো শুটিংয়ের কাপড় চোপড় বের করে সৌভাগ্যের ব্যাগ ভর্তি করে প্রায় শ’খানেক বই নিয়ে এসেছিলাম। ঠিক একই কাজ করেছিলাম নুহাশ পল্লীতে শুটিং করতে গিয়েও। স্যার কিন্তু আমার সেই বই ডাকাতি দেখে খুশিই হয়েছিলেন। সেইসঙ্গে অটোগ্রাফসহ তার অনেকগুলো সিডি নাটকের একটা সেট আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। স্যারের বাসা থেকে আনা সেই বইগুলো সযতেœ আমার বাসার বুকসেলফে রাখা আছে। সযতেœ রেখে দিয়েছি তার দেয়া সিডি নাটকের সংকলনটিও। স্যারের জন্মদিনে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। হে কলম জাদুকর। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]