• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » অবশেষে বিদিশার সঙ্গে ছেলে এরিকের বহুল প্রতীক্ষিত দেখা, দুজনেই এখন থেকে একসঙ্গে থাকতে চান


অবশেষে বিদিশার সঙ্গে ছেলে এরিকের বহুল প্রতীক্ষিত দেখা, দুজনেই এখন থেকে একসঙ্গে থাকতে চান

আমাদের নতুন সময় : 16/11/2019


দেবদুলাল মুন্না: বিদিশা মনে হয় এদিনটিরই অপেক্ষায় ছিলেন। অনেক প্রতিক্ষার পর শেষে দেখা পেলেন নিজ পুত্র এরিকের। বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় বিদিশা যখন এরিকের সঙ্গে দেখা করতে যান তখন দুজনেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জড়িয়ে ধরেন পরষ্পরকে। দুজনেরই চোখে কান্না। এরিক চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘মা তুমি এসেছ, তুমি ছাড়া আমার কেউ নাই। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না। ওরা আমাকে ঠিকমত খেতে দেয় না, গোসল করায় না। তুমি আমাকে একা ফেলে আর যেও না মা।’
বিদিশা ও বলেন, ‘তোমাকে ছাড়াও আমার একা থাকতে কষ্ট হয়। আমি তো তোমার মা।’ এরপর তিনি এরিককে নিজ হাতে গোসল করান, নিজের রান্না করা পোলাও রোস্ট খাইয়ে দেন। মা ছেলে গল্পে মেতে উঠেন। শেয়ার করেন এতদিনের দুঃখ হাসি কান্না।
জানা গেছে, এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় একা হয়ে পড়েছিলেন এরিক। চাচা জিএম কাদেরের তত্ত্বাবধানে বাসার লোকজন তার দেখাশেুনা করতেন। কিন্তু ঠিকমত তার দেখভাল করতেন না তারা। চাচা জিএম কাদেরকে বলা হলেও তিনিও ভাতিজার জন্য স্বাভাবিক কারণেই বেশি সময় দিতে পারেননি। ফলে এরিক একা হয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এরশাদের গাড়ির ড্রাইভার এরিকের গায়ে হাত তুলেন। তাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা মারেন। এসময় এরিক কাঁদতে কাঁদতে তার মা বিদিশাকে ফোন দেন। এখনই তার কাছে আসতে বলেন এরিক। ফোন পেয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে ছুটে যান বিদিশা। অনেকদিন পর মা ছেলের মিলন হয়। এরিক গতকাল বলেন,‘আল্লাহ’র রহমতে আমি এখন ভালো আছি। মাকে এতদিন পর ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে, কেমন ভালো লাগছে তা বুঝাতে পারবো না।’ এতদিন মার কাছ থেকে দূরে ছিলে কেমন ছিলে? জবাবে এরিক বলেন, ‘মা বাবা ছাড়া অনেক কষ্ট। বাবা নেই, আমার তো এখন মা ছাড়া আপন আর কেউ নাই। যার মা নেই সেই বুঝে তার কি কষ্ট।’

এরিক বলেন, ‘এতদিন আমি কেঁদে কেঁদে মাকে খুজেছি। কতবার চাচাকে (জিএম কাদের) বলেছি, আমার মাকে এনে দাও। আমি মার কাছে চলে যাবো। কিন্তু চাচা এনে দেইনি।’ কে মাকে দেখতে দেয়নি প্রশ্ন করলে এরিক বলেন, ‘চাচারা। চাচা জিএম কাদের তাকে দেখতে দেয়নি।’ চাচার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে এরিক বলেন, তার রাজনীতির কারণে আমি মাকে কাছে পাইনি। নিজের স্বার্থের জন্য যদি আমার মতো অসহায়কে ব্যবহার করা হয় তাহলে এরমত লজ্জাজনক আর কি থাকতে পারে। মাকে দেখতে না দিয়ে চাচা মহাঅন্যায় করেছেন, এজন্য তার শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন এরিক। এরিক বলেন, ‘আমি এখন থেকে মার কাছে থাকতে চাই। মা সঙ্গে থাকলে আমার আর কোন দুঃখ কষ্ট থাকবে না। কেউ আমাকে মারতে পারবে না। ’
এরিকের একটি ভিডিওও পোস্ট করেছেন বিদিশা এরশাদ গতকাল। সেখানেও একথাই বলেন এরিক। এদিকে বিদিশা এরশাদ বলেন,‘ ছেলে আমার কাছে সবকিছুর বিনিময়ে আমার যক্ষের ধনের মতো। এর চাইতে একজন মায়ের সুখ শান্তি আর কি হতে পারে। সুখের এই অনুভুতি পুথিবীতে কোন কিছুর বিনিময়ে বুঝানো যাবে না। দুনিয়াতে সন্তানের চাইতে আপন কিছু আর নেই। এখন থেকে এরিক তার কাছে থাকবে বলেও জানান বিদিশা। বিদিশা বলেন, ‘এতদিন আমার ছেলেকে তার চাচা দেখতে দেননি। এর চেয়ে অমানবিক কাজ আর কি হতে পারে। পিতৃহারা আমার ছেলেকে বাঁচাতে হলে মার বিকল্প নাই।’
বিদিশা আরও বলেন,‘এরিক অনেক রান্না শিখেছে একা একা থাকে বলে। আমাকে যখন বলল আমার কান্না চলে এলো। এরিক জানায় তাকে সকালে নাস্তা আর দুপুরে খেতে দেওয়া হতো। রাতে কিছু খেতে দেওয়া হতো না। তার আব্বু( এরশাদ) মারা যাওয়ার আগে বিসকিট ও মিনারেল ওয়াটার রেখে গিয়েছিলেন। বিসকিট ও শেষ , শুধু মিনারেট ওয়াটার আছে। মা , আমি কতোদিন ভাল খাবার খাই না। তোমার জন্য অনেক লিংক নেট ঘেটে ডাউনলোড করে রেখেছি। তুমি আমাকে ভাল ভাল ডিশ খেতে দিবে।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]