ভেঞ্চার ক্যাপিটালে শুল্ক বাধা কাটলো

আমাদের নতুন সময় : 16/11/2019

বিশেষ প্রতিনিধি : ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিভিন্ন দেশে পুঁজিবাজারের পরিধিভুক্ত বিকল্প বিনিয়োগ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। কিছুদিন হলো বাংলাদেশে এর পথচলা শুরু হয়েছে। কিন্তু এতোদিন ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ওপর স্ট্যাম্প ডিউটি ছিল বিনিয়োকারীদের জন্য বড় বাধা। এবার তা দুর করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
জানা গেছে, এনবিআর ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ওপর স্ট্যাম্প ডিউটি ২ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে। সংস্থার সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, স্ট্যাম্প অ্যাক্ট, ১৮৯৯ তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ট্রাস্ট চুক্তিপত্র নিবন্ধনের উপর আরোপিত স্ট্যাম্প ডিউটি ২ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। তবে এটি অনধিক ১০ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের বিকল্প যে বিনিয়োগ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, সেটিকেই বিকল্প বিনিয়োগ বলা হচ্ছে। এটা মূলত নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে একটি সর্বোত্তম বিনিয়োগ পদ্ধতি। কেউ ব্যবসা বা নতুন কিছু শুরু করতে চাইলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হতে পারে তার প্রথম পছন্দ। একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে বিকল্প বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকরা। উদ্যোক্তাকে বিনা সুদে মূলধন সরবরাহের পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানকে দক্ষতা ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান তৈরির আগ পর্যন্ত সঙ্গে থাকে তারা।
উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের ভালো আইডিয়া আছে, সামর্থ্য ও ইচ্ছা আছে; কিন্তু বিনিয়োগের অভাবে তারা আইডিয়াটাকে বাস্তরে রূপ দিতে পারছেন না। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তাদের পাশে দাঁড়ায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তারা তাদের আইডিয়া, সামর্থ্য, ইচ্ছা, সততা, মেধা ও শ্রম বিনিয়োগ করেন, আর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান অর্থ বিনিয়োগ করে। আইডিয়া স্টেজ, গ্রোথ স্টেজ ও এক্সপানশন স্টেজে এসব বিনিয়োগ করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি।
জানা গেছে, সারা বিশ্বে এ খাতে বর্তমানে ১ হাজার ৬০০ কোম্পানি রয়েছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির বর্তমান বিনিয়োগ ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশে দেড়-দুই বছর আগে আইন পাস হলেও এর জন্য সার্বিক পরিবেশটি এখনো গড়ে ওঠেনি। সারা বিশ্বে এ ধরনের বিনিয়োগ পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও, দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অভ্যস্ততা গড়ে উঠতে সময় লাগবে। দেশের শেয়ারবাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) মতো প্রডাক্টের নীতিমালা প্রণীত হলেও এক্ষেত্রে কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে অল্প সময়ের মধ্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটালে বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৮-৯টি প্রতিষ্ঠান বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনার নিবন্ধন নিয়ে কাজ করছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]