• প্রচ্ছদ » আমাদের খেলা » বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট স্কোয়াডের সদস্য অভিমানী বিকাশও থাকছেন ইডেন গার্ডেন্সে, হয়েছেন ধর্মান্তরিত


বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট স্কোয়াডের সদস্য অভিমানী বিকাশও থাকছেন ইডেন গার্ডেন্সে, হয়েছেন ধর্মান্তরিত

আমাদের নতুন সময় : 18/11/2019

এল আর বাদল : রেকর্ড বই বলছে, ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্টে সদাগোপান রমেশের হাতে ৫৮ রানে বোল্ড হয়েছেন রঞ্জন দাস। এ পরিসংখ্যানটুকু বাদ দিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাকে চেনার, জানার আর কোনো উপায় নেই। কী করেই বা থাকবে, সেই ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারত-বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচটাই যে তার জীবনের প্রথম এবং শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তিনি বাংলাদেশের বিকাশ রঞ্জন দাস।
দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন রঞ্জন। ১৮ বছর বয়সে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে। সেটা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক ঐতিহাসিক দিন। নাবালকত্ব ছেড়ে সাবালকত্বের পথে পা বাড়িয়েছিলো পদ্মাপাড়ের ক্রিকেট। অনেকেই তখন বলেছিলেন, লম্বা দৌড়ের মশলা রয়েছে বিকাশের মধ্যে। ঠিকঠাক রাস্তা ধরে এগোলে বাঁ হাতি পেসার সৌরভ ছড়াতেই পারতেন সে দেশের ক্রিকেটে।
কিন্তু যা ভাবা হয়, তা সব সময় মেলে না। ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরে যেতে হয় বিকাশকে। সে নামের অস্তিত্ব এখন আর নেই। ওই দিনের বিকাশ রঞ্জন দাস ব্যক্তিগত বিশ্বাসে বদলে ফেলেছেন ধর্ম। হয়ে গিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। ক্রিকেটারের পরিবর্তে এখন তিনি ব্যাংকের ম্যানেজার। ব্যস্ততার মধ্যে কাটে প্রতিটি দিন।
২০০২ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্ট খেলা বাংলাদেশ দলকে ইডেনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিসিসিআইর সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। ওই দলে খেলেছিলেন বিকাশ রঞ্জনও। ভারতে আসার ভিসা সবেমাত্র হাতে পেয়েছেন তিনি। উত্তেজনায় ফুটতে থাকা প্রাক্তন ক্রিকেটার বললেন, ২১ নভেম্বর ভারতের বিমানে উঠছি। আগামী ২২ নভেম্বর ইডেন গার্ডেন্সে দেখা হবে দাদার (সৌরভ গাঙ্গুলি) সঙ্গে। ১৯ বছর আগে সৌরভের বিরুদ্ধে শেষ বার খেলেছি। তার পরে আর দেখা হয়নি ওর সঙ্গে। এবার আবার দেখা হবে। দাদা দারুণ একটা উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের কথা যে ভুলে যাননি, তাতেই প্রমাণিত সৌরভ অনেক বড় মাপের মানুষ।
২০০০ সালে টেস্ট খেলার স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ। সৌরভের নেতৃত্বে ভারত গিয়েছিল সে দেশে। প্রাক্তন সেই ভারত অধিনায়ক এখন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। টেস্ট ক্রিকেটের গরিমা ফেরাতে দারুণ এক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্ট হবে ইডেনে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের। ঢাকার ইস্টার্ন ব্যাঙ্ক লিমিটেডের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার রঞ্জন বলছেন, সেই মধুর স্মৃতি কী করে ভুলবো! শান্ত (হাসিবুল হোসেন) ভাই প্রথম ওভার করেছিলেন। আর এক প্রান্ত থেকে আমি শুরু করেছিলাম। প্রথম বলটা করেছিলাম সদাগোপান রমেশকে।
রঞ্জনের জোরের উপরে ধেয়ে আসা বলটাই মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয় রমেশের কাছে। টাইম মেশিনের সাহায্য না নিয়ে রঞ্জন ফিরে যান ২০০০ সালের সেই প্রথম টেস্টে। তিনি বলছিলেন, একটু জোরের উপরেই বলটা রেখেছিলাম। বাড়তি বাউন্সে বল রমেশের ব্যাটে লেগে স্টাম্পে লাগে। একটু পরেই আম্পায়ার স্টিভ বাকনার এগিয়ে এসে আমার হাতে বেলটা তুলে দিয়ে বলেন, এটা যতœ করে রেখে দিও। এটা তোমার প্রথম টেস্ট উইকেটের স্মৃতি। বেলটা হাতে নিয়ে দেখলাম ভেঙে গিয়েছে। সেই বেল এখনও বিকাশ রঞ্জনের শো কেসে সযতেœ সাজানো রয়েছে।
আগামী শুক্রবার ভরা ইডেন গার্ডেন্সে আবেগতাড়িত করে তুলতে পারে বিকাশ রঞ্জন দাসকে। ফিরিয়ে দিতে পারে ১৯ বছর আগের সোনা রোদ্দুর। কল্পচোখে তিনি দেখতেই পারেন ১৮ বছরের এক তরুণ প্রতিভা বল হাতে ছুটছেন ঢাকার সাবেক জাতীয় স্টেডিয়ামে। তার বিষাক্ত ছোবলে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে রমেশের উইকেট। কে বলে ক্রিকেট কেড়ে নেয়। অনেক মন ভাল করা স্মৃতিও তো ফিরিয়ে দেয় ক্রিকেট। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]