আলোচিত গোলাপি বল নিয়ে চিন্তিত বাংলাদেশের বর্তমান ও সাবেকরা

আমাদের নতুন সময় : 19/11/2019

এল আর বাদল : কলকাতা ইডেন গার্ডেন্সে আগামী শুক্রবার প্রথমবারের মতো গোলাপি বলে দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত ও বাংলাদেশ। যা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। এই টেস্টকে ঘিরে টিকিটের জন্য হাহাকার ময়দান জুড়ে। টেস্ট খেলা হতো লাল বলে। আগে একদিনের ক্রিকেটও হতো এ বলে। এখন একদিনের ক্রিকেট সাদা বলে খেলা হয়। টেস্ট ক্রিকেটকে নতুনভাবে আকর্ষণীয় করার জন্যই আবির্ভাব গোলাপি বলের। শুধু দিনে সীমাবদ্ধ না রেখে রাতেও টেস্ট খেলার প্রয়োজনীয়তাই জন্ম দিয়েছে এই বলকে। রাতের বেলা দেখার সুবিধাই এই বলকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
গোলাপি বল রাতে দেখার সমস্যা নেই। আবার বল টিকেও থাকে দীর্ঘক্ষণ। টেস্টে যেমন ৮০ ওভারের পর বল পাল্টানোর নিয়ম রয়েছে। গোলাপি বল সেই শর্ত পূরণ করছে। গোলাপি বল যাতে ঝকঝক করে তার জন্য হাতে বোনার পর এতে বিশেষ ধাতুর স্তর বা ‘ল্যাকার’ দেওয়া হয়। বল শুকিয়ে যাওয়ার পর করা হয় পালিশ। তার জন্য যুক্ত হয় আলাদা স্তর।

পালিশের ফলে গোলাপি বলে আসা জেল সাহায্য করে সুইংয়ে। আবার বিশেষ ধাতুর স্তর বা ‘ল্যাকার’ থাকার জন্য লাল বলের তুলনায় এটা বেশি সময় টিকে থাকে। অনেক দেরিতে পুরনো হয়। গোলাপি বল তৈরি হয় যে কোনো রংয়ের চামড়া শুকিয়ে তার উপর রং করে। বিশেষ ধাতুর স্তর বা ‘ল্যাকার’ দিয়েও গোলাপি করা হয়। যেহেতু গোলাপি চামড়া পাওয়া যায় না, তাই বলে এভাবে আনা হয় গোলাপি রং। বলের চূড়ান্ত সেলাইয়ের আগে একবার রং করা হয়। আবার একই রং করা হয় সেলাইয়ের পর। বাড়তি রং করার ফলে কখনও কখনও গোলাপি বলকে কমলার মতোও লাগে।

লাল বলের চেয়ে গোলাপি বলের সিম বা সেলাই আবার বেশি চওড়া। ফলে বাড়তি বাউন্স হয়। সুইংও পান বোলাররা। অতিরিক্ত রংয়ের স্তর থাকার ফলে লাল বলের চেয়ে গতি-বাউন্সে সমস্যায় পড়েন ব্যাটসম্যানরা। এই বাউন্স নিয়েই চিন্তিত বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়করা বেশ চিন্তিত গোলাপি বলে খেলা নিয়ে। রকিবুল হাসান, হাবিবুল বাসার সমুন, আকরাম খান ও খালেদ মাসুদ পাইলট মনে করেন, এই গোলাপি বলের কারণে টাইগার ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তারা বলেন, এ বলে অতিরিক্ত রং বা ল্যাকার এবং চওড়া সেলাই থাকার কারণে বলে বাউন্স আর সুঁইং পাবেন বোলাররা। এ কারণে বিপদে পড়তে পারে ব্যাটসম্যানরা।
রকিবুল হাসান বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের ব্যাটসম্যানরা হচ্ছে বিশ্বসেরা। তাদের সুঁইং কিংবা বাউন্সি বলে মোকাবেলা করতে খুব একটা কষ্ট হয় না। আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য সত্যিকার অর্থেই গোলাপি বল বিপদজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। একই কথা বলেছেন আকরাম খান ও হাবিবুল বাসার সুমন।

এদিকে, ইডেন টেস্টে অংশ নিতে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে গতকাল কলকাতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। পৌঁছেই অল্প সময়ের জন্য অনুশীলনে নামে মুমিনুল বাহিনী। আজ থেকে পুরোদমে অনুশীলন করবে তারা। কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো বলেছেন, গোলাপি বল ভিজিয়ে রেখে তারপরে বোলিং ও ব্যাটিং অনুশীলন হবে। রাতে এ বল সাধারণত ভারী থাকে। সে কারণে গোলাপি বল ভিজিয়ে ভারি করে অনুশীলনে ব্যবহার করার হবে। মুমিনুল, মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, গোলাপি বলে হালকা অনুশীলন করেছি। বেশ ভারি বল। সুইং করে, ব্যাট ছোঁয়ালেই অনেক দূর চলে যায় বল। সুইং আর বাউন্সের কারণে আমাদের ব্যাটসম্যানের সমস্যা হতে পারে। এটাই আমাদের ভাবাচ্ছে। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]