• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » দাম বৃদ্ধির গুজবে রাজধানীতে লবণ কেনার হিড়িক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে দেশে মাসিক চাহিদার ৬ গুণ লবণ মজুদ রয়েছে


দাম বৃদ্ধির গুজবে রাজধানীতে লবণ কেনার হিড়িক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে দেশে মাসিক চাহিদার ৬ গুণ লবণ মজুদ রয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 19/11/2019

মো. আখতারুজ্জামান : রাজধানীতে বাজারগুলোতে গতকাল হঠাৎ করে লবণের চাহিদা বেড়ে যায়। ক্রেতারা বলছেন, তারা শুনেছেন লবণের কেজিপ্রতি দর ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ আশঙ্কায় তারা বাড়তি লবণ কিনে রাখছেন। তবে শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে মাসিক লবণের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খিলক্ষেত, তেজগাঁও-এর বেগুনবাড়ি, মগবাজার, মালিবাগ এলাকার বাজার ও মুদি দোকানেও লবণ কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা যায়। বেলা তিনটায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের দোকানগুলোয় লবণে বাড়তি চাহিদার সাথে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ দুই কেজি, কেউ ৫-১০ কেজি লবণ কিনছিলেন।
রাজধানীর খিলক্ষেতের বেপারিপাড়ার বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বশির উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে লবণের চাহিদা বাড়ে। তার দোকানে অন্যদিনের মত প্রতিকেজি মোটা লবণ ২৫ টাকা এবং চিকন ৩৫ টাকা বিক্রি করে। তবে দুপুরের মধ্যে তার দোকানের সব লবণ বিক্রি হয়ে যায়।
মালিবাগ এবং মগবাজার এলাকায় বিকালে ঘুরে দেখা যায়, দোকানের বিক্রেতারা বলেছেন সকালেই লবণ শেষ হয়ে গেছে। মালিবাগ মোড়ের স্বপ্ন সুপার সপে গিয়ে দেখা যায়, তাদের যা স্টোক ছিলো সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে লবণ না আসায় তারা ক্রেতাদের লবণ দিতে পারছে না।
মগবাজারের আগরা সুপার সপের বিক্রিতা আল আমিন জানান, বেলা ১১টার মধ্যেই সব লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। বেশি দামে বিক্রি হয়েছে কিনি জানতে চাইলে তিনি বলে আমাদের এখানে বেশি দাবে বিক্রি সুযোগ নেই। এখানে মোটা লবণ ২৫ টাকা এবং চিকনটা ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
মগবাজার মোড়েরর ভ্যারাইটিস স্টোরের মালিক খালেক জানান, আজ হঠাৎ করে এতো লবণের এতো চাহিদা বাড়বে জানলে আগের দামে লবণ বিক্রি করতাম না। সকালে একজন ৫২ কেজি লবণ কেনে নিয়ে যায়।
লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নূরুল কবির জানান, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। কি কারণে হঠাৎ লবণ এমন চাহিদা হলো সে বুঝতেছি না। আমাদের কাছে পর্যপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে।
লবণের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্যলবণের চাহিদা কমবেশি ১ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, লবণের মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকটের গুজব রটিয়ে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে লবণের কোন ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ ১৮.২৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমাণ সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিকটন। লবণসংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য বিসিক’র প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর- ০২-৯৫৭৩৫০৫, ০১৭১৫২২৩৯৪৯।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]