• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বাবা-মা কর্মস্থলে, আইপি ক্যামেরায় সন্তানকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে পান বাবা


বাবা-মা কর্মস্থলে, আইপি ক্যামেরায় সন্তানকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে পান বাবা

আমাদের নতুন সময় : 19/11/2019

 

মাসুদ আলম : ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন সরকার ও লুৎফুন্নাহার দম্পতির একমাত্র সন্তান আবদুল্লাহ আবতাই আয়াত। বসবাস করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায়। আল আমিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আর লুৎফুন্নাহার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। দুইজনই কর্মজীবী হওয়ায় দুই বছরের শিশু আয়াত থাকতো গৃহকর্মী শাহিদা ওরফে তাজনারার (৪৫) কাছে। ছেলের দেখভালের জন্য বাসায় একটি আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা লাগানো হয়। ক্যামেরার ভিডিও দেখা যেতো মোবাইলে। সেই ক্যামেরায় অফিসে বসে আল-আমিন দেখেন ছেলের ওপর গৃহকর্মীর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য। তা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের। মারধরের সেই ভিডিওটি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শাহজাহানপুর থানার এসআই মো. আবুল আনছার বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার আল আমিন বাদি হয়ে শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করেন। ওই দিনই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে শাহিদা। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন নারী বাথরুম থেকে একটি শিশুকে ঘরের ভেতর ছুড়ে ফেলে দেন। এরপর ক্রন্দনরত শিশুটিকে টানা কয়েকদফা লাথি মারতে থাকেন ওই নারী। ছোট্ট শিশুর প্রতি একজন নারীর এ হিংস্র আচরণ অবাক করেছে সবাইকেই।
আল আমিন বলেন, আগে তার মা আয়াতকে দেখাশুনা করতেন। তিনি গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় গত দুই মাস ধরে আয়াতকে দেখাশুনা করতেন শাহিদা। তাকে অত্যন্ত পরহেজগার মানুষ মনে হয়েছিলো। আল আমিনের গ্রামের বাড়ি গাইবন্ধা আর লুৎফুন্নাহারের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। শাহিদার বাড়িও কুড়িগ্রামে। কিন্তু আয়াতকে মারধরের বিষয়ে মা লুৎফুন্নাহারের সন্দেহ হওয়ায় বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলে। সে অনুযায়ী গত ৮ নভেম্বর বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। কিন্তু ক্যামেরার বিষয়টি শাহিদাকে বুঝতে দেয়নি তারা। ক্যামেরা বসানোর ৫ দিনে যা ধরা পড়েছে, সেগুলো তেমন কিছু না। কিন্তু বৃহস্পতিবার আল আমিন অফিসে বসে বাসার ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। আইপি ক্যামেরা হওয়ায় স্মার্টফোনেই লাইভ দেখা যেতো। সেদিনই অফিসে বসে গৃহকর্মীর হাতে শিশুকে ভয়ংকর এ মারধরের ঘটনা চোখে পড়ে। তিনি শাহিদাকে ফোন করে বলেন পাশের বাসার একজন ফোন করে জানালো, বাবু কাঁদছে, কিন্তু শাহিদা বিষয়টি অস্বীকার করে। কিন্তু তাকে বিষয়টি বুঝতে দেননি। সঙ্গে সঙ্গে স্বামী ও স্ত্রী বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাসায় ফিরে সন্তানকে জড়িয়ে ধরে, কোলে নেয় কিন্তু অন্য দিনের মতো চিৎকার করে ‘বাবা’ ‘বাবা’ করে নাই। বাচ্চাটা মারের ভয়ে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে, ‘বাবা’ বলতে যেন ভুলেই গিয়েছিলো।
তিনি আরো বলেন, শাহিদাকে কিছু বুঝতে না দিয়েই আয়াতকে ডাক্তার দেখানো হয়। চিকিৎসক বলেছেন, মানসিকভাবে সে অনেক ভয়ের মধ্যে আছে। কিন্তু বিষয়টি শাহিদাকে বুঝতে দেয়া হয়নি। তাকে বললে হয়তো সে পালিয়ে যেতো। পুলিশ আসার পর সে বুঝতে পেরেছে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]