• প্রচ্ছদ » সাবলিড » ব্রিটিশ নির্বাচন; হ্যাট্রিক জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঘরে ঘরে টিউলিপ


ব্রিটিশ নির্বাচন; হ্যাট্রিক জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঘরে ঘরে টিউলিপ

আমাদের নতুন সময় : 19/11/2019

সাইদুল ইসলাম, লন্ডন : ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ব্রিটেনজুড়ে যে পাঁচ-ছয়টি আসনের জয় পরাজয় নিয়ে ভোটার ও ব্রিটিশ গণমাধ্যমের উন্মুখ দৃষ্টি তার মধ্যে একটি হল লন্ডনের হ্যামষ্টেড ও কিলবার্ন আসন। লন্ডনের আসনগুলোর মধ্যে এবারও এই আসনেই সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ভোটাররা। লন্ডনের কেন্দ্রস্থলের এ আসনের বর্তমান এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।
ব্রিটেনের রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের ফেলো টিউলিপ রেজোয়ানা সিদ্দিক ২০১৫ সালে এ আসন থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।
২০১৫ সালে লন্ডনের হ্যামষ্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে প্রথমবার এমপি হন টিউলিপ। ঐ নির্বাচনে ২৩,৯৭৭ ভোট পান তিনি। ২০১৭ সালের নির্বাচনে তিনি ৩৪,৪৬৪ ভোট পেয়ে পুনঃনির্বাচিত হন।
আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে লিবারেল ডেমোক্রেট (লিবডেম) টিউলিপের আসনটি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্রিটেনের যে আসনগুলোতে ভোটের জরিপে লিবডেম এগিয়ে আছে এ আসনটি তার অন্যতম। টিউলিপের বিপরীতে এ আসনে লিবডেম প্রার্থী ম্যাথ স্যান্ডারর্স জনমত জরিপেও এগিয়ে আছেন।
এ আসনে ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভের নতুন প্রার্থী জনি লুক। গত নির্বাচনে কনজারভেটিভের মনোনিত প্রার্থী ক্লারে লিউস এ আসন থেকে নির্বাচন করে ১৮,৯০৪ ভোট পান, যা মোট ভোটের ৩২.৪ শতাংশ। আর টিউলিপ পান মোট ভোটের ৫৯ শতাংশ।
এ আসনে জয় পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক স্থানীয় জুইশ কমিউনিটি। এ আসনে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ভোট পূর্ব লন্ডনের তুলনায় অনেক কম। যদিও বাংলাদেশি রাজনীতির সূত্র ধরে কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার জের ধরে গত নির্বাচনগুলোতে এ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা লন্ডনের অন্যান্য স্থান থেকে সমবেত হয়ে গিয়ে টিউলিপের বিরুদ্ধে ও
কনজারভেটিভ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে তিন বড় দলের তিন প্রার্থীর মধ্যে টিউলিপ সিদ্দিক পরিচিতি ও ব্যক্তি ইমেজে এগিয়ে রয়েছেন।
ব্রিটেনের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ৩৭ বছর বয়সী টিউলিপ মাত্র সাড়ে চার বছর মেয়াদের মধ্যে তৃতীয় দফার নির্বাচনী বৈতরণীর মুখোমুখি। কিন্তু, আসন্ন নির্বাচনে যেহেতু ব্রেক্সিট মুল উপজীব্য বিষয় সেক্ষেত্রে জাতীয় ইস্যুগুলোই সারা ব্রিটেনে আসনগুলোর জয় পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হবে।
টিউলিপ সাংবাদিকদের বলেছেন, আমার বেড়ে উঠা এ সংসদীয় আসনে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমি হ্যামষ্টেড ও কিলবার্নের মানুষের কন্ঠস্বর বা প্রতিনিধিত্ব করি। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তার অতীতের কাজগুলো বিচার বিশ্লেষণের ভার দায়িত্ব তার ভোটারদের কাছেই সপে দিয়েছেন।
ড. রেনু লুৎফা লেখক ও অধ্যাপক। আসন্ন নির্বাচনে টিউলিপ সিদ্দিকের জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিউলিপের এবারের ভোটে জয়ী হবার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকার ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা প্রচুর। টিউলিপ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিটেনে আমন্ত্রণ এর বিরোধিতা করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পার্লামেন্টের ইতিহাসে ভাস্কর হয়ে থাকবে।
কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ক্যামডেন এর চেয়ারম্যান ও পার্টির মনোনীত কাউন্সিলার প্রার্থী শাহীন আহমেদ রোববার এ প্রতিবেদককে বলেন, যেহেতু টিউলিপ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং আমিও একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি সে কারণে আমি এবার এ আসনে কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে ক্যাম্পেইনে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]