• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » জামালপুরে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর স্বামীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১


জামালপুরে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর স্বামীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

আমাদের নতুন সময় : 20/11/2019

 

খাদেমুল বাবলু : জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণ পুর গ্রামে গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক ও অভিযুক্তরা ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারকে চারদিন অবরুদ্ধ করে রাখে। সোমবার রাতে পালিয়ে এসে জামালপুর প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয় ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবার। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দায়িত্বরত এসআই গুলজার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিকটিম দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা আমাকে জানিয়েছে, আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি. তারা ব্যবস্থা না নিলে আমার কি করার আছে? ঘটনার পরদিন সকালে জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই বউয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে খলিলুর রহমান আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে বক্তব্যটি নিয়ে ফের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তৎক্ষণিক বক্তব্যটি দিয়েছিলাম।
ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে প্রতিবেশী ছানোয়ার, শাওন ও রফিজ উদ্দিন তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছানোয়ারের বাড়ির পেছনে একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এরপর ছানোয়ারের বাড়িতে আটকে রেখে তার স্বামীকে (খলিলুর রহমান) ডেকে এনে মারধর করে হত্যার পর তার লাশ বাড়ির পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরদিন সকালে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং একটি অপমৃত্যু মামলা করে। তবে হত্যাকা- এবং ধর্ষণের বিষয়ে পুলিশ কোন মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ।
সাংবাদিকরা রাতে থানায় অবস্থানকালে প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হানের মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, আমার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হলে কাউকে ছাড়বো না। ওই গৃহবধূকে খারাপ ও নষ্টা বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
ঘটনা ফাঁস হয়ে তোলপাড় হলে সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় মামলা নেয় পুলিশ। গৃহবধূ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অভিযুক্ত ছানোয়ার, শাউন ও রফিজকে আসামি করে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই সদর থানার ওসি সালেমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক শাউনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জামালপুর সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান জানান, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ৩ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান, ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]