• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » টাঙ্গাইলে ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচারপ্রার্থী কলেজছাত্রী অভিযুক্তদের বাঁচাতে চেয়ারম্যান বললেন যৌনকর্মী


টাঙ্গাইলে ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচারপ্রার্থী কলেজছাত্রী অভিযুক্তদের বাঁচাতে চেয়ারম্যান বললেন যৌনকর্মী

আমাদের নতুন সময় : 20/11/2019

মাসুদ রানা : এমনই ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামে। ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান তার পরিষদের প্যাডে ওই কলেজ ছাত্রীকে দেহ ব্যবসায়ী ও তার কৃষক বাবাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে এ মাসের ৫ তারিখ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কলেজ ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমার পরিবারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন।
ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলেন সারুটিয়াগাজি গ্রামের জয়ধর শেখের ছেলে মো. জুয়েল রানা (২২), ধুবড়িয়া গ্রামের হায়েদ আলীর ছেলে মো. শিপন (২৬), মো. রিপন (২৩), উফাজ (৪২) ও একই গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. রিয়াজ মিয়া (২১)। মামলা তুলে নেয়ার জন্য পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে তারা। সিআইডি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েটি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুরে এক কলেজে লেখাপড়া করে আসছে। জুয়েল এ ছাত্রীকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে জুয়েল রানা ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটায়। সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তারা ঐ কৃষকের পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ও দেহ ব্যবসার কোন অভিযোগ পাননি।
এ ব্যাপারে ধুবড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান। আমি প্রতিবেদন দিতে পারি তাই দিয়েছি। ছাত্রীর বিরুদ্ধে মাদক ও দেহ ব্যবসার ক্ষেত্রে কোন মামলা আছে কি না আমি জানিনা। এলাকার লোকজন বলেছে তাই আমি এ প্রতিবেদন দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট এস আকবর খান বলেন, ‘আদালত কর্তৃক কাউকে দোষী না করা পর্যন্ত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা তো দূরের কথা মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী বলে কাউকে আক্রান্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত।’ এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ জানান, চেয়ারম্যান কলেজ ছাত্রীর বিরুদ্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা সঠিক নয়। এ পরিবারের নামে মাদক ও দেহ ব্যবসার বিষয়ে এলাকায় ও থানায় কোন অভিযোগ নেই। এ মামলার আসামিরা মেয়ের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকী প্রদান করে আসছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে এবং আসামিরা পলাতক আছে। মেয়েটির পরিবারের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সারুটিয়াগাজি গ্রামের জয়ধর শেখের ছেলে জুয়েল রানা। কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় কিন্তু মেয়ের বাবা সে প্রস্তব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট জুয়েল রানা ২০১৮ সালের ১২ জুলাই, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধুবরিয়া বাচ্চু মিয়ার ব্রীজের সামনে থেকে বন্ধুদের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি কৌশলে পালিয়ে এসে তার বাবা-মাকে ঘটনাটি জানায়। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান, ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]