সরকারি চাকরিজীবীদের মৃত্যু-আহত বাড়ায় সম্মানী চায় কমিটি

আমাদের নতুন সময় : 20/11/2019

বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার হারও। আর প্রশাসনের কর্মরত মৃত্যু-আহত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে সরকার। এই কাজ দেখভালের জন্য রয়েছে আর্থিক অনুদান প্রদান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটি। কমিটির সদস্যরা এই কাজের জন্য সম্মানী ভাতা চায়। তাদের এই চাওয়া পূরণ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাইছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখা থেকে অর্থবিভাগে পাঠানো এক চিঠির সূত্র ধরে এই তথ্য জানা গেছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক প্রশাসনে চাকরিরত অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুবরণ এবং গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতাজনিত কারণে আর্থিক অনুদান প্রদান নীতিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী আর্থিক অনুদান প্রদান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটির সভার সম্মানী প্রদানের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২১৫ টি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আবেদনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৬২ টি। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আবেদনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৮০ টি। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আবেদনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৯০ টি। এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আবেদনের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৫০ টি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে এ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদেন সভায় অংশগ্রহনের বিনিময়ে কোনো সম্মানী প্রদান করা হয় না। কেন্দ্রীয় কমিটি ৬ সদস্যবিশিষ্ট।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের নীতিমালা অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখায় প্রতিমাসে ন্যূনতম একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সভায় ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ জেলার অভ্যন্তরে সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয়ের অফিস এবং ৫৮টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থায় বেসামরিক প্রশাসনে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুবরণ এবং গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষম হলে তাদেরকে অনুদান দেয়ার লক্ষ্যে প্রাপ্ত আবেদন ও সংযুক্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নীতিগত সুপারিশ প্রদান করা হয়ে থাকে।
কল্যাণ শাখা থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের এ কাজটি জটিল ও কষ্টসাধ্য। এ কাজের জন্য কেন্দ্রীয় বাছাই কমিটির সভার সভাপতি, সদস্য সচিব বা সদস্যদেরকে কোন সম্মানী দেয়া করা হয় না। এছাড়া বিপুল সংখ্যক আবেদন ডাটা এন্ট্রি করে সভার জন্য উপস্থাপন এবং বহন করে সভাপতির কক্ষে নেয়া আনা এবং সংরক্ষণ করার জন্য শাখার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও কোন প্রণোদনা দেয়া হয় না।
নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছর থেকে বেসামরিক প্রশাসনে চাকরিরত অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুবরণ এবং গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্তদেও আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা সভায় আবেদন যাচাই-বাছাই করে আবেদনকারীদের জন্য আর্থিক অনুদান মঞ্জুরীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন। যা একটি নিয়মিত চলমান প্রক্রিয়া।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় ৪০০ টি আর্থিক অনুদানের আবেদন যাচাই-বাছাই করে আর্থিক অনুদান দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়ে থাকে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখা থেকে অর্থ বিভাগে দেয়া চিঠির দাবি অনুযায়ি, আর্থিক অনুদান দেয়ার জন্য আবেদনগুলোর প্রাপ্যতা যাচাই কাজটি শ্রমসাধ্য যা প্রণোদনার যোগ্য। তাছাড়া কাজের পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনার ক্ষেত্রে মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতাজনিত আর্থিক অনুদান সংক্রান্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত আবেদন সংক্রান্ত কাজের জন্য কেন্দ্রীয় বাছাই সভার সদস্যদের অনুদান দেয়া প্রয়োজন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]