আন্তর্জাতিক অবয়ব পেলো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন

আমাদের নতুন সময় : 22/11/2019


৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান স¤্রাট : চার দশকের পুরোনো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন তার পুরোনো অবয়ব পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক রূপ পাচ্ছে। ভেতরের আসন ব্যবস্থা, সাউন্ড সিস্টেম, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লোরের টাইলস পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস ও বেগম রোকেয়া পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৭৯ সালে নবাব আব্দুল গনি রোড়ে সচিবালয়ের দক্ষিণপার্শ্বে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক এমএজে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরে এর আসনসহ মিলনায়তনের অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযুগী হয়ে পড়ে মিলনায়তনটি। ফলে এর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার কাজ চলতি বছরের মার্চ মাসে শুরু হয়ে আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদের সাত মাস আগেই সংস্কার কাজ শেষ করতে যাচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের কাজ পুরোপুরি শেষ, এখন ধোয়া মোছার কাজ চলছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার গতকাল বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়নের আধুনিকায়নের কাজ পরিদর্শন করেন। মন্ত্রী পুরো মিলনায়তনের আধুনিকায়নের কাজ ঘুরে দেখেন এবং তাৎক্ষণিক কিছু নির্দেশনা দেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মেট্ট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের আধুনিকায়নের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে এ্যাকুইস্টিক ডিজাইন করে আনা হয়েছে। এছাড়া পুরো স্থাপত্য নকশা করেছেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থাপতি কাজী নাসিরের নেতৃত্বে সংস্কার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যারাডিম আর্কিটেক্ট এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের স্থাপত্যবিদরা। চীন থেকে আনা হয়েছে এর আসন। ৭২০টি আসনের মধ্যে রয়েছে ৪টি প্রতিবন্ধীবান্ধব আসন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধার্থে তাদের হুইল চেয়ারবহনযোগ্য লিফটও স্থাপন করা হয়েছে। সাউন্ড সিস্টেমসহ আধুনিক যুগের উপযোগী করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য অডিও আউটপুট রাখা হয়েছে।
ফ্লোরের দীর্ঘদিনের পুরোনো মোজাইক পরিবর্তন করে লাগানো হয়েছে আধুনিক মার্বেল পাথর। ফলস সিলিংগুলোকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে স্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে পর্যাপ্ত দৃষ্টিনন্দন লাইটিংয়ের ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আগে ২৫০ টন ধারণ ক্ষমতার ছিল। এবার তা আরো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯০টনে। ফলে অডিটরিয়ামের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনো সমস্যা থাকবে না।
এসবের বাইরেও একটি ভিভিআইপি অফিস ও দু’টি কনফারেন্স হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সিসিটিভি, নেটওয়ার্কিং ওয়াইফাই এবং এলইডি ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল, এমএজি ওসমানীর প্রতিকৃতি স্থাপনসহ লবি এরিয়া, সেমিবেজমেন্ট ফ্লোর, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ তলা ও মিলনায়তন এলাকার চারপাশের সংস্কার কাজ করা হয়েছে রুচিশীলতার সঙ্গে। ফলে এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্স সেন্টারে পরিণত হয়েছে।
ড. মঈনুল ইসলাম বলেছেন, রুচিশীল ও আধুনিক স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একটি পরিশীলিত ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]