নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজারে জিম্মি ক্রেতা

আমাদের নতুন সময় : 26/11/2019

দেশজুড়ে এফবিসিসিআইয়ের বাজার সমন্বয় শুরু
মেরাজ মেভিজ : শুধু সবজি, মসলা, চাল কিংবা ভোজ্য তেলই নয় সব ধরনের নিত্যপণ্যের বাজারেই আগুন। পরিবহন জটিলতা বা আমদানি নির্ভরতাই নয় সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ছে যে দাম তারও নেই কোনো সমন্বয়। অথচ প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে শীত। বাজার ভরে উঠছে বাহারি টাটকা সবজির মজুদে।
সম্প্রতি এ নিয়ে একটি সমন্বয় পরিকল্পনায় চার মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারা বসেছিলেন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে। এর ধারাবাহিকতায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর তত্ত্বাবধানে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে থাকা নিত্যপণ্যের বাজারগুলোর সমীক্ষা।
মুঠোফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এ প্রতিবেদককে বলেন, রাজধানী ও বড় বড় শহরগুলোই নয় একেবারে জেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতেও সমীক্ষার কাজ শুরু করেছি আমরা। ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম চেম্বারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা তাদের আওতায় থাকা বিভিন্ন বাজার ও বণিক সমিতিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও একেবারে উপজেলা শহরের বাজারগুলোর বিভিন্ন সমিতির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের বলা হচ্ছে পণ্যের দাম ও মজুদ সম্পর্কে ধারনা দিতে। যাতে সেভাবে আমরা সরকারকে আগাম বার্তা পৌঁছে দিতে পারি। আশা করছি এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি গঠনমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বাজারে এমন অস্বাভাবিকতা ভবিষ্যতে আর হবে না।
এদিকে এমন সমন্বয় কতটা জরুরি তার প্রমাণ গতকালের বাজারচিত্র। সপ্তাহের ব্যবধানে ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৮ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেলের মধ্যে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চাল বিক্রিতে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৬-১০ টাকা।
গতকালের হিসাবে বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, আধাপাকা টমেটোর কেজি ১২০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৮০ টাকা, শিম ৭০-১০০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, পাতাকপি ৫০-৭০ টাকা, নতুন আলুর কেজি ১০০-১১০ টাকা। শসা ১২০ টাকা, ধনেপাতা ১৮০-২০০ টাকা, মুলার কেজি ৬০, গাজর ১২০ টাকা, শালগম ৮০ টাকা, সবুজ বরবটি ৬০ টাকা, লাল বরবটি ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা কেজি, কচুরলতি ৬০ টাকা ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মধ্যে ডাল, ভোজ্যতেল, ময়দা, আদা-রসুন ও ডিমের দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি মসুরের ডাল (নেপালি) বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। যা আগে ১১৫ টাকা ছিলো। ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল (পাঁচ লিটারের বোতল) বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ৪৫০-৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতিলিটার বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়, যা দাম বাড়ার আগে ছিলো ৮৫ টাকা।
প্রতি কেজি রসুন কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা। আর আদা কিনতে ব্যয় হচ্ছে কেজিতে ১৯০-২০০ টাকা। এছাড়া এক হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকায়। যা একদিন আগেও ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব, ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]