• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » ঝড় থেকে পালানো নয়, নিজ চেষ্টায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশের জলবায়ু উদ্বাস্তুরা


ঝড় থেকে পালানো নয়, নিজ চেষ্টায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশের জলবায়ু উদ্বাস্তুরা

আমাদের নতুন সময় : 30/11/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ১ দশক আগে দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার রুমা বেগম ও তার স্বামী বাড়ি ছেড়েছিলেন। উপকূল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সরে গিয়ে তারা নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। পরিবর্তিত জলবায়ু আর নদীভাঙনের কারণে তারা নিজ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। ইন্টার প্রেস সার্ভিসেস।
দুই সন্তানের জননী রুমা আইপিএসকে বলেন, ‘নদীভাঙন আর লবনাক্ততার তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে তমিজউদ্দিনে কৃষিকাজ অসম্ভব হয়ে গিয়েছিলো। আমরা চরহাজারিগঞ্জে পালিয়ে আসি। পেছনে আমাদের সবকিছু পরে ছিলো। আমাদের আর কোনও উপায় ছিলো না।’
চর ফ্যাশন উপজেলায় বসবাসরত ১ হাজার ৬৫০টি পরিবারের ৮০ শতাংশই জলবায়ু শরণার্থী। রুমার পরিবার এখানে আসার পর তার স্বামী দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরে তিনি একটি লিজ নেয়া জমিতে ছোটখাট কৃষিকাজ শুরু করেন। তারা উপক’লের এক এলাকা থেকে আর এলাকায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন, কিন্তু লবনের জন্য প্রায় কিছুই ফলছিলো না। এরমধ্যে ছিলো সাইক্লোন ভীতি। বাংলাদেশের একটি বড় অঞ্চলজুড়েই উপকূল। দেশটির খাদ্য ঘাটতি থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু ২০১৮ সালের টেকসই খাদ্যসূচক বলছে বাংলাদেশ একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশ। অথচ এই দেশের সার ব্যবহার কমেছে।
আসলে রুমা বেগমের মতো উপকূলীয় পরিবারগুলো এক গোপন বিপ্লব ঘটিয়েছে। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ করে লবনসহিষ্ণু ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা। এছাড়াও নিজেরা উদ্ভাবন করেছেন এমন সব পদ্ধতি যেনো ঝড়ের সময় তাদের ফসল অক্ষত থাকে। ঝড়ের মৌসুমে তারা আর ধান চাষ করেন না। তারা আগাম ধানের চাষ করেন, যে সময় উপকূলে লবনাক্ততা কম থাকে। শুষ্ক মৌসুমে তারা চাষ করেন এমন ফসল, লবনে যার ক্ষতি হয় কম। ঝড়ের মৌসুমের ঠিক আগে চাষ করেন মিস্টি কুমড়া। ঝড়ে যেই ফসলের ক্ষতি হয়না বললেই চলে।
এই মানুষগুলো প্রকৃতিকে চেনেন। প্রকৃতিকে বদলের হাস্যকর চেষ্টা না করে বদলে নিয়েছেন নিজেদেরকেই। ফলে যাদের দুই বেলা ভাত জুটতো না, তারা নিজেরা এখন খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছেন। তারা ঝড়, বন্যা দেখে আর পালিয়ে বেড়ান না। বরং বুক চিতিয়ে মোকাবেলা করেন। সম্পাদনা : ইকবাল খা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]