• প্রচ্ছদ » » দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা

আমাদের নতুন সময় : 30/11/2019

আমিরুল ইসলাম : বাজারে পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সকল নিত্যপণ্যের দাম। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ক্রেতাদের হাফ ছেড়ে বাঁচার উপায় নেই। বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণেই এমনটা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বাজারের ধর্ম অনুযায়ী চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সবসময় সমন্বয় রাখতে হবে। সে সমন্বয় রক্ষা করতে হলে বাজারে পণ্যের চাহিদা কি রকম হবে সেটা যেমন প্রক্ষেপণ করা দরকার, তার সঙ্গে বাজারে কেমন সরবরাহ এসেছে দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে সেটা সবসময় পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এই কাজগুলো করার জন্য একটা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে এমন একটা প্রতিষ্ঠান এখনো গড়ে ওঠেনি। এটাকে বলা হয় এগ্রিকালচার প্রাইস কমিশন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এমন একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন গবেষকরা এই কমিশনের সঙ্গে ফুলটাইম এবং পার্টটাইম কাজ করে। তারা সরকারকে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ব্যাপারে আগাম নোটিশ দেয়। যার ফলে বাজারটা স্থিতিশীল থাকে। আমাদের দেশেও এ রকম কৃর্ষিপণ্যের মূল্য কমিশন গঠন করলে এটা একটা বিশাল কাজ হবে। আমাদের সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সংযোগ আরও বাড়ানো উচিত। এতে করে কোন জায়গায় জোর দেয়া প্রয়োজন সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। আমাদের বাজার ব্যবস্থায় অতিদ্রত দুটো কাজ করা উচিত : ১. সরবরাহ বাড়ানোর জন্য গবেষণায় জোর দেয় প্রয়োজন। ২. আমাদের দেশের সংবেদনশীল পণ্যগুলোর জন্য (পেঁয়াজ, রসুন, আদা) আলাদাভাবে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা দরকার। আমাদের দেশে একটা বিষয় দেখা যায় কোনো পণ্যের উৎপাদন যখন বেড়ে যায় তখন আমদানিও বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে আমদানিটা নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। কৃষিপণ্যের উপর সবসময় নজরদারি রাখা জরুরি। কোন পণ্যের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা তা দেখার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাইকে একসঙ্গে নামতে হবে বাজারকে সহনীয় করতে। ইলেকট্রনিক মার্কেটিংয়ে খুব জোর দিতে হবে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের ই-কমার্সে নিয়ে আসতে পারলে বাজারকে অনেক বেশি সহনীয় করা যাবে ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। বাজারে দু’একটি পণ্যের দাম বাড়লে বাকি পণ্যেরও দাম বাড়ে। এটাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় সমানুভূতিশীল মূল্য বৃদ্ধি। বাজার ব্যবস্থায় এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই সমস্যাটি দূর করার জন্য বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি দুই মাধ্যমেই সরবরাহ বাড়াতে হবে। ভোক্তা অধিকার নিয়ে আমাদের দেশে বিভিন্ন আইন আছে। এসব আইন কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি উৎপাদনে ঘাটতি থেকে থাকে তাহলে আমদানি করে সার্বিকভাবে সরবরাহ বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বেশিরভাগ সময়ই অতিরঞ্জিত ইস্টিমেট দেয়, এটা একটা বড় সমস্যা।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]