বিজয়ের মাস শুরু আজ

আমাদের নতুন সময় : 01/12/2019


সমীরণ রায় : আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বর। ৪৯ বছর আগে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্ব-একাত্তরের এ মাসেই অর্জিত হয় বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধে কাঙ্খিত বিজয়। এ মাসের প্রথম দিন থেকে মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক বিভিন্ন জেলায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করে অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে আসতে থাকে রাজধানীর দিকে। এর পর ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি ও তার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।
একাত্তরের এই দিনে মুক্তি বাহিনী সিলেটের শমসের নগরে আক্রমণ চালিয়ে টেংরাটিলা ও দোয়ারাবাজার শত্রুমুক্ত করে। মুক্তিবাহিনীর অপারেশনের মুখে পাকিস্তানিরা সিলেটের গ্যরা, আলীরগাঁও ও পিরিজপুর থেকেও ব্যারাক গুটিয়ে নেয়। একই দিনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার পার্লামেন্ট বক্তৃতায় উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান ইয়াহিয়া খানের প্রতি। এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাস আগে যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেই যুদ্ধে বিজয় এখন সুনিশ্চিত। যে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ৭ মার্চ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন, সেই উদ্যানেই ১৬ ডিসেম্বর পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের জেনারেল নিয়াজি। ইতিহাসের নতুন এক মোড়ে এসে দাঁড়ায় হাজার বছরের বাঙালি জাতিসত্তা। ডিসেম্বরে তাই বাঙালি ও বাংলাদেশের গৌরব আর অহঙ্কারের মাস।
মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন, ধর্ষিত হন চার লাখ নারী-যাদের বঙ্গবন্ধু স্বীকৃতি দেন নিজের কন্যা হিসেবে, অভিহিত করেন ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে। ২০১৫ সাল থেকে তাদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।
প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয়ের মাসে দেশবাসী বিজয় ও মুক্তির আনন্দে উল্লসিত। ভালোবাসায় উজ্জীবিত ও শোকে মূহ্যমান হয়ে তারা অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নানা আয়োজনে সবার চেতনায় অনুরণিত হবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবনত ভালোবাসা।
আজকের কর্মসূচি : ডিসেম্বরের শুরুতেই আজ রোববার দেশজুড়ে পালিত হবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় পুনর্জাগরণ, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, আর্থিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানবোধ জাগানোর লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি পালন করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। আজ বিজয়ের মাসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শিখা চিরন্তনে’ আলোক প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছে মাসব্যাপী কর্মসূচির। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিনিধিদের নিয়ে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও মুক্তিযোদ্ধা দিবস উদযাপন কমিটি আলোচনা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]