রাজধানীতে মাদকাসক্ত স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন

আমাদের নতুন সময় : 01/12/2019

 

সুজন কৈরী : রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে কানিজ ফাতেমা টুম্পা (২৫) নামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ছুরিকাঘাত করেন স্বামী সাফকাত হাসান রবিন। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। শুক্রবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। টুম্পা শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
টুম্পার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামে। তার পরিবার কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় থাকেন। চার বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন টুম্পা। কয়েকদিন আগে জন্মদিন উদযাপন করা টুম্পা স্বপ্ন দেখছিলেন ব্যাংকার হওয়ার।
টুম্পার ছোটো বোন আয়শা আক্তার জানান, কুড়িল চৌরাস্তা এলাকায় তার বোনের স্বামী সাফকাত হাসান রবিনের নিজের বাড়ি। ওই বাড়ির পাশের বাসায় তারা ভাড়া থাকতেন। পরিচয়ের সূত্রে রবিনের সঙ্গে টুম্পার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন প্রেমের পর দুই মাস আগে রবিন টুম্পাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর টুম্পা রবিনদের বাসায় থাকা শুরু করে। কিন্তু রবিন মাদকাসক্ত হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার টুম্পা বাবা-মাকে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলে। তার খালা নাজমা তাকে আনতে যান। আসার পথে চৌরাস্তায় প্রকাশ্যে পেছন থেকে টুম্পার পিঠে রবিন ছুরিকাঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, রড দিয়ে টুম্পাকে মারতো রবিন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসায় গিয়ে টুম্পাকে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় তাদের সামনেই রড দিয়ে টুম্পাকে মারতে আসে রবিন। মাদকাসক্ত ও বেকার স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকায় বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় টুম্পা।
প্রত্যক্ষদর্শী টুম্পার খালা বলেন, টুম্পা বলেছে তুমি ভালো হও। আজকে আমি তোমার বাসায় যাব না কাল আস তুমি। কালকে যাব। এই বলে চলে যাওয়ার সময় রবিন পেছন থেকে টুম্পাকে ছুরিকাঘাত করে।
টুম্পার বাবা শাহ আলম হাওলাদার রাজধানীর একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তিনি জানান, স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে টুম্পা এক সপ্তাহ আগে বাবার বাসায় ফিরে যান। এরপর রবিন গত বুধবার ফোনে ডেকে নিয়ে যায় টুম্পাকে। যাওয়ার পর থেকে টুম্পার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শাহ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার টুম্পার মা ও খালা খোঁজ করতে গেলে তারা টুম্পাকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় পান।
ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিহত টুম্পার মা বাদি হয়ে রবিনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। সম্পাদনা :সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]