• প্রচ্ছদ » » এইডস প্রতিরোধের মূল উপাদান শিক্ষা সচেতনতা, ঝুঁকি অনুধাবনের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও ধারণা, বললেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ


এইডস প্রতিরোধের মূল উপাদান শিক্ষা সচেতনতা, ঝুঁকি অনুধাবনের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও ধারণা, বললেন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2019

আশিক রমান : বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, এইডস রোগ ভীতিকর হলেও প্রতিরোধযোগ্য। এইচআইভির বিরুদ্ধে কার্যকর ওষুধ ও প্রতিষেধক টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে প্রতিরোধ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে এর থেকে নিস্তার পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। সাধারণত এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে বা তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সুচ ব্যবহার করলে, আক্রান্ত কারো সঙ্গে অসংরক্ষিত যৌন সম্পর্ক করলে এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে। গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা গর্ভধারণের শেষ দিকে বা প্রসবের সময় এমনকি মাতৃদুগ্ধ পানেও হতে পারে। তবে চিকিৎসা করে এই আশঙ্কা কিছুটা হ্রাস করা যায় এবং তখন মায়ের দুধও বাচ্চাকে দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ঘাতক ব্যাধি এইডস পুরোপুরি নিরাময়ের উপায় এখনো পাওয়া যায়নি। তাই জনমনে এই রোগ নিয়ে নানা ভীতি কাজ করে। একই সঙ্গে এই রোগ নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নানারকম ভ্রান্ত ধারণাও প্রচলিত আছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা অনেক কম। অনেকে জানেনই না, এই রোগের লক্ষণ কী কী? কীভাবে এইডস প্রতিরোধ করা যায়?
এইচআইভি প্রতিরোধের মূল উপাদান হচ্ছে শিক্ষা, সচেতনতা, ঝুঁকি অনুধাবনের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও ধারণা। মানুষের চিন্তায় ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। এইডস প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষ নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলন থেকে বিরত থাকা, যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার, অন্য মানুষের দাড়ি কামানোর ব্লেড, ক্ষুর করা যাবে না। মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বর্জন করতে হবে। এইডস আক্রান্ত নারীদের গর্ভধারণ করা উচিত নয়। কেননা তাতে সন্তানের এইডস নিয়ে জন্মগ্রহণের প্রবল আশঙ্কা থাকবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে এইডস আক্রান্ত নারীরা এইডসবিহীন সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাই সন্তান নিতে চাইলে আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সন্তানকে বুকের দুধ দেওয়ার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত
১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি কর্তৃক। এরপর ১৯৮৮ সালে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটি। সে বছরই ১ ডিসেম্বরকে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এইডসের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয় লাল ফিতা বা রিবন, যার মাধ্যমে এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতাসহ প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এইডস হচ্ছে হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এক ধরনের রোগ, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বহুলাংশে হ্রাস করে দেয়। এতে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যেকোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যার শেষ পরিণতি মৃত্যু।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]