তিন বিভাগের পেট্রল পাম্পে ধর্মঘট, জেলায় জেলায় দুর্ভোগ

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2019


মুরাদ হাসান : গতকাল ভোর ৬টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করেছে ট্যাংকলরী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীসহ রংপুর ও খুলনা বিভাগে সরকারের দেয়া ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
রাজশাহী প্রতিনিধি মঈন উদ্দীন জানান, রাজশাহীতে পাম্পে তেল না পেলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে তেল। খোলা বাজারে অথবা বোতলজাত করে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা লিটারে যা পাম্পগুলোতে বিক্রি হয় ৮৭ টাকা দরে। কিন্তু পাম্প বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত দামে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যানবাহন মালিকরা। শনিবার ফিলিং স্টেশন গুলো গতকাল হতে তেল দেয়া হবে না, এমন কথা শুনে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মেসার্স আফরিন ফিলিং স্টেশনসহ অন্য অন্য স্টেশন গুলোতে অন্য সব দিনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হয়।
খুলনা প্রতিনিধি শরীফা খাতুন দেয়া তথ্যে জানা যায়, শ্রমিকরা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি তেল ডিপোর তেল উত্তোলন ও বিপনন বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে খুলনাসহ ১৫ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, কর্মবিরতি চলাকালে খুলনার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলায় চলছে না ট্যাংকলরির চাকা। একই সঙ্গে পেট্রল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি ইউসুফ মিয়া জানান, জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোও বন্ধ রয়েছে। রাজবাড়ীর শ্রীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোফাখখারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যতোক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের ১৫ দফা দাবি মেনে নেয়া হবে ততোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিদি জানান, সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনকে বহনকারী গাড়িতে জ্বালানি (ডিজেল) দেননি পেট্রল পাম্প শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঠাকুরগাঁও সফর শেষে সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। তাকে বহনকারী গাড়ি দুটি শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নেয়ার জন্য গেলে জ্বালানি না দিয়েই ফিরিয়ে দেন পাম্পে কর্মরত শ্রমিকরা। এ সময় গাড়িতে বসা ছিলেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন।পাম্পে কর্মরত শ্রমিক বলেন, পেট্রল পাম্প মালিকের নির্দেশে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছি আমরা। শুধু এমপি নন, কোনো গাড়িতেই জ্বালানি দিচ্ছি না।
রংপুর প্রতিনিধি জানান, জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ও ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। সরকার ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি মেনে না নেয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট। প্রতিনিধি মোস্তাফিজার বাবলু জানান, ধর্মঘটে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহনের মালিক ও চালকরা। সম্পাদনা : টিএম হুদা, খালিদ আহমেদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]