ভারতের তেলেঙ্গানায় পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে হত্যা, ব্যাপক প্রতিবাদ

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : দিল্লির বাসে তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যার পর আরও একটি ধর্ষণের ঘটনায় ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এবার তেলেঙ্গানার এক ২৬ বছর বয়সী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করেছে একটি লরির ড্রাইভার হেলপারসহ ৪ কর্মী। তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও বিক্ষোভকারীরা বলছেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া না হলে দেশটিতে ধর্ষণ কমবে না। তেলেঙ্গারার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ধর্ষকদের দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হবে। এনডিটিভি, ইয়ন নিউজ।
ধর্ষণের সময় চিকিৎসকের চিৎকার বন্ধ করতে মুখে হুইস্কি ঢেলে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ধর্ষণের পর নিজেদের ট্রাকে করেই মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে যায় তারা। রাস্তায় কিনেছিলো পেট্রোল। আটক চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের পর এমনই প্রতিবেদন শনিবার আদালতে জমা দিয়েছে তেলঙ্গানার সাইবারাবাদ পুলিশ। তাতেই উঠে এসেছে এমনই সব ভয়ঙ্কর তথ্য। বৃহস্পতিবার সকালে হায়দরাবাদের অদূরে চাতানপল্লির কাছে একটি কালভার্টের নীচে থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণী চিকিৎসকের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর শনিবার তাদের আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
চিৎকার আটকাতে মূল অভিযুক্ত জুল্লু নবীন মুখে মদ ঢেলে দিয়েছিলো। জুল্লু নবীন ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হলো লরি চালক মোহাম্মদ আরিফ, জুল্লু শিবা এবং চিন্তাকুনটা চেন্নাকেশাভুলু। সেই চিকিৎসক নিজের ক্লিনিকে থাকাকালেই নবীন তার স্কুটার পাংচার করে রাখে। ক্লিনিক থেকে বের হলে, এক অভিযুক্ত শিবা তরুণীকে সাহায্যের নাম করে স্কুটারটি এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে এসে তাকে বলে, সমস্ত গ্যারেজ বন্ধ। এর পরেই তরুণীকে জাপটে ধরে টেনে হিঁচড়ে লরির পিছনে একটি পরিত্যক্ত এলাকায় নিয়ে যায়। মূল অভিযুক্ত নবীন তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়। তার পরেই তরুণী চিকিৎসক চিৎকার করতে শুরু করলে নবীন তার মুখে মদ ঢেলে দেয়। তার পর চলে ধর্ষণ। এক পর্যায়ে তরুণী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে ফের চিৎকার করতে শুরু করেন। তখনই ধর্ষকরা তাকে খুনের পরিকল্পনা করে। আরিফ তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে মারা যান তরুণী। এরপর চার জন মিলে দেহটি তাদের ট্রাকে তোলে। শিবা ও নবীন তরুণীর স্কুটার ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। রাস্তায় শিবা একটি বোতলে পেট্রোল কিনে নেয়। এর পর লরি চালিয়ে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর চাতানপল্লির কাছে কালভার্টের নীচে নিয়ে যায়। মৃতদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]